নিউজ ডেস্ক : দিল্লির একটি রাজনৈতিক সভার রেশ এবার এসে পড়ল বাংলার রাজনীতিতেও। একই মঞ্চে বিরোধী নেতাদের একের পর এক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। কোথাও বিরোধী ঐক্যের বার্তা, কোথাও আবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আইনি পদক্ষেপের হুশিয়ারি। আর সেই আবহেই বাংলার এক বিজেপি বিধায়কের মন্তব্য ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। নিশানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রাহুল গান্ধী, কাউকেই ছাড়লেন না তিনি।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীকে 'আমার নেত্রী' বলে সম্বোধন করতেই তাঁকে কটাক্ষ করেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তব বাগচী। তাঁর বক্তব্য, মঞ্চের পরিবেশ দেখে রাজনৈতিক সম্মেলনের পরিবর্তে যেন স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো চলছে বলে মনে হয়েছে। মমতার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, একই সভা থেকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে রাহুল দাবি করেন, ভোট চুরির অভিযোগে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে জেলে পাঠানো হবে। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, জ্ঞানেশ কুমারের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। SIR-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে।
রাহুলের এই বক্তব্যের পাল্টা অবস্থান নিয়েছেন কৌস্তভ বাগচী। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে SIR চালু করে জ্ঞানেশ কুমার প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। এমনকি তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়ার যোগ্য বলেও মন্তব্য করেছেন বিজেপি বিধায়ক। অন্যদিকে রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, রাহুল আসলে বিজেপির 'স্টার ক্যাম্পেনার'। তাঁর বক্তব্য, রাহুলের রাজনৈতিক ভাষণ বিজেপির প্রচারেই সহায়ক হচ্ছে।
এদিকে, বিরোধীদের আন্দোলনের পাল্টা কর্মসূচি নিয়েও পথে নেমেছে বিজেপি। 'গণতন্ত্র বাঁচাও অরাজকতা হটাও' স্লোগানকে সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রচারের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে গেরুয়া শিবির। সোমবার কলকাতায় কলেজস্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের। উপস্থিত থাকবেন শুভেন্দু অধিকারী ও শ্রমিক ভট্টাচার্যেরও।
সব মিলিয়ে একদিকে বিরোধী জোটের মঞ্চ থেকে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে আক্রমণ, অন্যদিকে বিজেপির পাল্টা রাজনৈতিক কর্মসূচি। এর ফলে জাতীয় রাজনীতির উত্তাপের আঁচ এসে পড়েছে বাংলাতেও। মমতার মন্তব্য এবং রাহুলের হুশিয়ারিকে হাতিয়ার করে কৌস্তভের পাল্টা আক্রমণ সেই রাজনৈতিক সংঘাতকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।




