হুগলি: ফের চিনা মাঞ্জার আতঙ্ক! রাস্তার উপর অদৃশ্য ঘাতকের মতো ঝুলে থাকা ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে গুরুতর জখম হলেন এক বাইক চালক। সোমবার ব্যান্ডেলের শরৎ সরণীতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়ায় তীব্র চাঞ্চল্য। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছেন আক্রান্ত ব্যক্তি। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আহত ব্যক্তির নাম হারাধন আচার্য। তিনি হুগলির তালডাঙ্গার বাসিন্দা এবং পেশায় পুরোহিত। সোমবার বাইক নিয়ে চুঁচুড়া থেকে ব্যান্ডেলের দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় শরৎ সরণীর জিটি রোডের উপর আড়াআড়িভাবে ঝুলে ছিল ঘুড়ির সুতো। চলন্ত বাইকে থাকার কারণে সুতোটি তাঁর নজরে আসেনি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই সুতো তাঁর গলায় জড়িয়ে যায়। ধারালো চিনা মাঞ্জার ঘষায় গভীরভাবে কেটে যায় গলা। সঙ্গে সঙ্গে রক্ত ঝরতে শুরু করে।
ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি হারাধনবাবু। পরে গলায় তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
আহত হারাধনবাবুর কথায়, ব্যান্ডেলের দিকে যাওয়ার সময় হঠাৎ গলায় কোনও একটি সুতোয় টান অনুভব করেন তিনি। প্রথমে বুঝতে পারেননি কতটা গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। পরে রক্তপাত শুরু হলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন।
এই ঘটনায় আরও বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। কারণ, দুর্ঘটনার ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়েছিলেন এক স্কুটার চালক। কিছু একটা ঘটেছে বুঝতে পেরে তিনি সময়মতো নিজের গাড়ি থামিয়ে দেন। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই তিনিও একই বিপদের মুখে পড়তে পারতেন বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
উল্লেখ্য, চিনা মাঞ্জার কারণে দুর্ঘটনা নতুন নয়। কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অতীতেও এই ধারালো সুতোয় গলা কেটে আহত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চিনা মাঞ্জার বিক্রি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও কীভাবে এই বিপজ্জনক সুতো ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ব্যান্ডেলের এই ঘটনা ফের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, সামান্য অসতর্কতা কিংবা নিষিদ্ধ চিনা মাঞ্জার ব্যবহার মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে একটি প্রাণ। রাস্তার উপর এভাবে বিপজ্জনক সুতো ঝুলে থাকা রুখতে প্রশাসনের নজরদারি এবং কড়া পদক্ষেপের দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।




