কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: চোরবাগান দুর্গাপুজোর বিপর্যয়ে একাধিক মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুকে নিশানা করে সরব হলেন বিরোধীরা। পুজোর বিপর্যয়ে প্রাণহানির ঘটনাকে কি ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলে উল্লেখ করা যায়? অধ্যক্ষের উদ্দেশে এমনই প্রশ্ন তুলে বিবৃতি দিয়ে বক্তব্য সংশোধনের দাবি জানালের মমতা তৃণমূলের সাংসদ কুণাল ঘোষ।
ঘটনার সূত্রপাত সাংবাদিক বৈঠকে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসুর একটি বক্তব্য ঘিরে। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, 'আমরা সবাই দুর্গাপুজোতে আনন্দ করেছি। ছোট্ট একটু ঘটনা ঘটেছিল, তার জন্য মনটা একটু ভারাক্রান্ত হয়েছিল।' এরপরই সোমবার সমাজমাধ্যমে রথীন্দ্র বসুর ওই ভিডিয়ো পোস্ট করে কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ। সেখানে নিশানা করে বলেন, 'মাননীয় বিধানসভার অধ্যক্ষ, পুজোয় চোরবাগানের মৃত্যুমিছিল ছোট্ট ঘটনা? মুখ থেকে বেরলো? বিবৃতি দিয়ে সংশোধন করে নেওয়া প্রয়োজন।'
একইসঙ্গে চোরবাগানের ঘটনায় মৃতদের তালিকা তৈরি রাখার কথাও বলেন কুণাল। আগামী বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে যে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হবে, তাতে চোরবাগানের বিপর্যয়ে নিহত প্রত্যেকের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এবার সেই ঘটনাকে বিধানসভার শোকপ্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ঘিরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহল।
প্রথম মহাসপ্তমীর দিন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে চোরবাগান সর্বজনীন পুজো মণ্ডপে। বৃষ্টির মধ্যে পুজো দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সমস্যা তৈরি হয়। ঘটনায় প্রাণ হারান ১৯ জন। অসুস্থ ও আহতদের উদ্ধার করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী পাঠানো হয়। ঘটনার পর থেকেই চোরবাগান এলাকার পরিস্থিতি এবং পুজো মণ্ডপে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার পরই গিরিশ পার্ক থানায় তীব্র বিক্ষোভ দেখিয়েছিল তৃণমূল, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস। সেই ঘটনায় এফআইআরও দায়ের হয় কুণালের বিরুদ্ধে।




