কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে ব্যাট হাতে কার্যত তাণ্ডব চালালেন অভিষেক শর্মা। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাত্র ৩০ বলে শতরান করে একসঙ্গে একাধিক নজির গড়ে ফেললেন ভারতীয় ওপেনার। কোনও টেস্ট খেলুড়ে দেশের ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম শতরানের রেকর্ড এখন তাঁর দখলে। এর আগে এই নজির ছিল নিউজিল্যান্ডের ফিন অ্যালেনের।
চলতি বছরই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৩৩ বলে শতরান করেছিলেন তিনি। সেই রেকর্ডকে ছাপিয়ে গেলেন অভিষেক। শুধু তাই নয়। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে দ্রুততম শতরানের রেকর্ডও নিজের নামে করে ফেলেছেন তিনি। ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৫ বলে শতরান করে এত দিন এই নজিরের মালিক ছিলেন রোহিত শর্মা।
অভিষেক এ দিন কী মেজাজে নেমেছিলেন, তা বোঝা যায় পাওয়ার প্লেতে ভারতের স্কোর দেখলেই। অভিষেক-তাণ্ডবে প্রথম ৬ ওভারেই ১০০ রান তুলে ফেলে মেন ইন ব্লু। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এর আগে পাওয়ার প্লেতে ভারতের সর্বোচ্চ রানের আগের রেকর্ড ছিল ৯৫। এ দিন সেটিও পেরিয়ে গেলেন শ্রেয়স আইয়াররা।
প্রথম উইকেটের জুটিতে সঞ্জু স্যামসনকে (৫০) সঙ্গে নিয়ে অভিষেক এমন ঝড় তোলেন যে, ১০ ওভার শেষ হওয়ার আগেই উঠে যায় ১৪২ রান। ৩৪ বলে ১০৮ রান করে শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের বলে আউট হলেও অভিষেকের ইনিংসটি সাজানো ৯টি চার এবং ১১টি লম্বা ছক্কায়। অর্থাৎ ১০২ রানই এসেছে বাউন্ডারি থেকে।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ ইতিমধ্যেই ভারতের হাতের মুঠোয়। কার্যত নিয়মরক্ষার ম্যাচেই নিজের ব্যাটিংয়ের ছন্দকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেলেন অভিষেক। আফগান বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তিনি। একের পর এক ছয়-চারে মাঠের চার দিক মাতিয়ে দেন।
বিশ্বরেকর্ড গড়ে শতরান পূর্ণ করার পরও থামার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে। শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের বলে এই অবিস্মরণীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘটলেও স্ট্রাইক রেট ৩১৭.৬৫। যার সুবাদে ততক্ষণে ভারতীয় ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম লিখে ফেলেছেন যুবরাজ সিংয়ের প্রিয় ছাত্র।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্রুততম শতরানের সর্বকালীন রেকর্ড অবশ্য এখনও অধরা অভিষেকের। সেই তালিকায় তাঁর আগে রয়েছেন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান এবং তুরস্কের মহম্মদ ফাহাদ। সাইপ্রাসের বিরুদ্ধে সাহিল ২৭ বলে এবং ফাহাদ ২৯ বলে বুলগেরিয়ার বিরুদ্ধে শতরান হাঁকিয়েছিলেন। অভিষেক ৩০ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছে রইলেন তৃতীয় স্থানে।
অর্থাৎ এক বলের ব্যবধানেই দ্বিতীয় স্থান থেকে দূরে থাকলেন তিনি। কিন্তু কোনও টেস্ট খেলুড়ে দেশের ক্রিকেটার হিসেবে তথা ভারতের হয়ে দ্রুততম টি-টোয়েন্টি শতরানের নজির—দুই ক্ষেত্রেই এ দিন নতুন ইতিহাস লিখলেন তরুণ ভারতীয় ওপেনার। দিল্লির রাত তাই শেষ পর্যন্ত হয়ে থাকল অভিষেক নামক এক সুনামির রাত। চা দেখে মুখে হাসি ফুটল গুরু গম্ভীরেরও।