স্পোর্টস ডেস্ক: আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বল হাতে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন হয়েছে নীতীশ কুমার রেড্ডির। ৩ উইকেট নিয়ে টিম ইন্ডিয়াকে সিরিজ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন তরুণ অলরাউন্ডার। তাঁর পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সুনীল গাভাসকরও। তবে প্রশংসার পাশাপাশি ভবিষ্যতের এই প্রতিভাকে নিয়ে ভারতীয় বোর্ডকে সতর্কও করেছেন দেশের প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর বক্তব্য, নীতীশের মতো তরুণ ক্রিকেটারদের দ্রুত জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা না করে সময় দিতে হবে। ব্যর্থ হলেও তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
গাভাসকরের মতে, হার্দিক পাণ্ডিয়ার পর ভারতের পেস-বোলিং অলরাউন্ডারের জায়গায় নীতীশ গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠতে পারেন। তিনি বলেন, আইপিএলে প্রথম দিকে নীতীশ মূলত ব্যাটার হিসাবেই নজর কেড়েছিলেন। পরে কয়েক ওভার বল করার সুযোগ পাওয়ায় বোঝা যায়, তাঁর মধ্যে কার্যকর অলরাউন্ডার হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু নীতীশ নন, ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং সূর্যাংশ শেডগেকেও ভবিষ্যতের জন্য নজরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন লিটল মাস্টার। তাঁদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি করার কথাই বলেছেন তিনি।
গাভাসকরের বক্তব্য, এই ক্রিকেটাররা মূলতঃ ব্যাটার হিসেবে দলে থাকলে অনেক সময় তাঁদের চিন্তাভাবনাতেও ব্যাটিংয়ের প্রভাব বেশি থাকে। কিন্তু বোলিংকে আরও গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে ভারতের হাতে আরও বিকল্প তৈরি হবে। বিশেষ করে নীতীশের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চাপ না বাড়িয়ে তাঁকে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। সব মিলিয়ে বিসিসিআইয়ের উদ্দেশ্যে গাভাসকরের বার্তাটি স্পষ্ট। একটি খারাপ ম্যাচের পর তরুণদের সমালোচনা না করে তাঁদের উৎসাহ দিতে হবে।
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচের আগে অবশ্য আত্মবিশ্বাস কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল নীতিশের। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে দুই ওভারে ৩০ রান দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন। মাত্র ২৪ রানের তুলে নেন ইব্রাহিম জাদরান, গুলবাদিন নায়েব এবং রশিদ খানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের। চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পর এই পারফরম্যান্স নীতীশের জন্য তাই বিশেষ তাৎপর্যের। ম্যাচের পর তিনি জানান, চোট থেকে ফিরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াটা যে কোনও ক্রিকেটারের জন্য জরুরি। ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রেখে সঠিক কাজ করে গেলে ঈশ্বর ঠিক সময়ে ফল দেবেন, এই বিশ্বাস নিয়েই এগোতে চান তিনি।