নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: আর মাসখানেকের ভেতরেই আসতে চলেছে দেবীপক্ষ। তার আগেই দেবীদের আবাহন শুরু হয়ে গিয়েছে। গত শুক্রবারে সিআরপিএফের কোবরা ইউনিটের দায়িত্ব নিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল সংযুক্তা পরাশর। আর এবার আরেক দেবী'র হাতে হতে চলেছে একই বড় রহস্যের উদঘাটন। যেই ঘটনা একটা সময় সারা ফেলে দিয়েছিল গোটা দেশে।
তাঁর ঝুলিতে রয়েছে রাজ্য তথা দেশের স্পর্শকাতর বেশ কয়েকটি মামলার প্রধান দায়িত্ব। সেই মামলাগুলি কোনটির নাম হাথরাস, কোনোটির নাম উন্নাও আবার কোনটি আরজিকর। তিনি সীমা পাহুজা। আর এই মুহূর্তে তিনি আবার লাইম লাইটে। তার কারণ এবার তার হাতে আসতে চলেছে সুশান্ত সিং রাজপুত-র ম্যানেজার দিশা সালিয়ান-র মৃত্যু রহস্যের ফাইল।
২০২০ সালের ৮ই জুন। মুম্বাইয়ের মালাডে একটি বহুতল থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দিশা সালিয়ান-র। এবং কাকতালীয়ভাবে দিশা-র মৃত্যুর কয়েক দিনের মাথাতেই নিজের ফ্ল্যাটে রহস্যজনক মৃত্যু হয় বিখ্যাত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুত-র। আর ঠিক এই জায়গাতেই শুরু হয় জল্পনা। সাধারণ মানুষের মনে জেগে ওঠে একটি প্রশ্ন- এই দুই ঘটনার মধ্যে কি কোন যোগসূত্র আদৌ আছে? এই ঘটনায় বিস্তর ছোটাছুটি হয়েছিল। সারা পড়ে গিয়েছিল মুম্বাইয়ে। বিশেষত বলিউড এবং মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলেও দেখা গেছিল চাঞ্চল্য।
দিশার মৃত্যুতে নাম জড়ায় মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলের হেভিওয়েট নেতা উদ্ধব ঠাকরে এবং তার ছেলে আদিত্য ঠাকরে-র। তবে সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কেসটিকে ধামাচাপা দেওয়া হয়। পুলিশের তরফে বলা হয় এটি একটি রহস্য মৃত্যু। দিশার বাবা দাবি করেছিলেন তার মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে।
কিন্তু কেসটি ধামাচাপা পড়ে যাওয়ায় এটা নিয়ে আর কাজ হয়নি। এরপর আবার ওই কেসটি রি-ওপেনের পিটিশন করেন দিশা সালিয়ানের বাবা সতীশ সালিয়ান। ওই পিটিশনের ভিত্তিতেই বম্বে হাই কোর্ট সম্প্রতি একটি শুনানিতে সিবিআইকে ওই মামলাটির পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয়। ষড়যন্ত্র করে ধামাচাপা দেওয়া মামলাটিতে নাম জড়িয়ে ছিল উদ্ধব ঠাকরে, উদ্ধব-পুত্র আদিত্য ঠাকরে, দিনো মারিয়া, রিহা চক্রবর্তী সহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বর। সেই তদন্তের ভার সামলাতে আসছেন সীমা পাহুজা।
বম্বে হাইকোর্ট রায় দেওয়ার সাথে সাথে এটিও বলে যে ওই ঘটনায় যুক্ত সরকারি কর্মী, পুলিশ আধিকারিক, ডক্টর ও নার্সদের ভূমিকাও তদন্ত করে দেখবে সিবিআই। বিশেষত মামলার নথি ফাইল এবং সরকারি তথ্য-প্রমাণ নষ্ট বা গোপন করা হয়েছে কিনা। অথবা সরকারি নদীর জাল করাও হয়ে থাকতে পারে! এছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিষয়টিকে চেপে দেওয়া হচ্ছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। ঠিক এই কারণেই ডাক পড়ে সীমা পাহুজা'র।
এই মুহূর্তে সীমা পাহুজা দিল্লির সদর দপ্তরে স্পেশাল ক্রাইম ইউনিটের এসপি পদে কর্মরতা। তাকে এই কেসে সাহায্য করতে আসছেন ডিএসপি পুরান কুমার সহ একটি গোটা ইউনিট। অত্যন্ত বুদ্ধি খাটিয়ে এবং চতুরতার সঙ্গে তদন্তের সঠিক বিশ্লেষণ করে থাকেন সিবিআই অফিসার সীমা পাহুজা। বিশ্লেষণ এবং ততধিক সূক্ষ্ম চিন্তা করার জন্য বিশেষ খ্যাতি রয়েছে অফিসার সীমা পাহু। এর আগেও সামলেছেন একাধিক হাইপ্রোফাইল মামলা। ২০২০-২০২১ সালের মধ্যে হিমাচল প্রদেশের শিমলায় এক ১৬ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনাতেও তিনি তদন্ত করেন। ওই তদন্তে অত্যন্ত জটিল রহস্যের জট খুলতে আধুনিক ফরেন্সিক পদ্ধতির ব্যবহার করেছিলেন তিনি। দেশজুড়ে তাঁর প্রশংসা হয়। আর তাই অসামান্য কাজের দক্ষতার স্বীকৃতি পান তিনি। লাভ করেন ২০২১ সালে 'সেরা তদন্তকারী অফিসার' স্বর্ণপদকটি।
দিশা সালিয়ান মামলায় হত্যা, গণধর্ষণ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রমাণ ধ্বংস এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানের ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করা হয়েছে সিবিআই এর তরফ থেকে। জানা গিয়েছে ওই ঘটনার ঠিক আগে নিজের বাগদত্ত রোহন রাইয়ের মুম্বইয়ের ফ্ল্যাটে ছিলেন তিনি। সেখানে রাতে একটি ছজমায়েত ঘি। তবে এটাই জানাগিয়েছেএই গোটা তদন্ত প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন সীমা পাহুজা।