কলকাতা: শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতায় নতুন মোড়। সভার জন্য নির্ধারিত মাঠ নিয়ে আপত্তি ওঠার পর এবার শ্রীরামপুর কোর্ট চত্বরে সভা করার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে সেই অনুমতি একাধিক শর্তসাপেক্ষ। আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি প্রথমে মিছিলকে কেন্দ্র করে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হাইকোর্ট মিছিলের পরিবর্তে সভা করার অনুমতি দেয়। এর আগে মাহেশের জগন্নাথ দেব স্নানপিড়ি ময়দানে সভা করার অনুমতি দেওয়া হলেও মাঠের মালিকানা ও ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে আপত্তি ওঠে। আদালতে জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫ জুলাইয়ের একটি রেজোলিউশনের মাধ্যমে ধর্মীয়, সেবামূলক এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনও কর্মসূচির জন্য মাঠ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে শ্রীরামপুর কোর্ট চত্বরে সভা করার বিষয়টি সামনে আসে। আদালত সেই বিকল্প নিয়েই অনুমতি দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার বিকেল ৪টে থেকে ৬টার মধ্যে শ্রীরামপুর কোর্ট চত্বরে সভা করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সভায় এক হাজারের বেশি সমর্থক থাকতে পারবেন না। একইসঙ্গে কোনও ধরনের মিছিল করা যাবে না।
মাঠ নিয়ে শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে কোনও রাজনৈতিক দলের সভার জন্য মাঠ নিষিদ্ধ করা উচিত নয়। ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় রাখা হবে কি না, সেটিও মাথায় রাখার বার্তা দেন তিনি।
মন্দির কর্তৃপক্ষের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে জানান, গত ৫ জুলাই রেজোলিউশন করে ধর্মীয়, সেবামূলক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য কোনও কর্মসূচির জন্য মাঠ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আগে কেন জানানো হয়নি, তা নিয়েও শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে।
এর আগে একই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ মাহেশের স্নানপিড়ি ময়দানে সভার অনুমতি দিয়েছিল। সেই সময় আদালত মিছিল নিষিদ্ধ করে সভার সময়সীমা ও জমায়েতের সংখ্যাও বেঁধে দিয়েছিল। পরে রাজ্য সরকার ও জমির মালিকপক্ষ ডিভিশন বেঞ্চে যায় এবং বিষয়টি ফের সিঙ্গল বেঞ্চে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ফলে শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা নিয়ে আইনি টানাপোড়েন বেশ কয়েক দফায় গড়িয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জমি ব্যবহারের অধিকার এবং স্থানীয় মানুষের সুবিধা—এই তিনটি বিষয়ই শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন আদালতের নির্ধারিত শর্ত মেনেই ২৬ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি হবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। বিশেষ করে সভার স্থান, নির্দিষ্ট সময় এবং সর্বাধিক এক হাজার মানুষের উপস্থিতির শর্ত কতটা মেনে কর্মসূচি আয়োজিত হয়, সেটাই পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।