দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: চারপাশ তখনও ঘন কুয়াশা আর ভোরের গা ছমছমে নিস্তব্ধতায় মোড়া। হঠাৎ-ই সেই নীরবতা ভাঙলো এক বিকট আওয়াজে, আর তার ঠিক পরেই পুকুরের জলে ভারী কিছু আছড়ে পড়ার এক তীব্র শব্দ শোনা গেল। আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর ছেড়ে ছুটে বাইরে এসে দেখেন, রাস্তার ধারের একটি প্রাইভেট গাড়ি খেলনার মতো দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে, আর পাশের পুকুরের ধীরে, ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে পানীয় জল ভর্তি একটি বিশালাকার ট্রাক। কিন্তু পরে জানা যায় ট্রাকের ড্রাইভারের আসন খালি। কিন্তু কোথায় গেলেন তিনি? এই উত্তর সকলেরই অজানা। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রহস্য। হঠাৎ দুর্ঘটনা গ্রস্ত গাড়ি থেকে ড্রাইভার হয়ে গেল হাওয়া যা রীতিমত শোরগোল ফেলেছে সর্বত্র।
ডায়মন্ডহারবার থানার নেতড়া-হটুগঞ্জ রোডের নেতড়া কামালপুর এলাকায় ভোরবেলা ঠিক কী ঘটেছিল? তা বুঝে উঠতেই বেশ কিছুটা সময় লেগে যায় সবার। তীব্র গতিতে ছুটে আসা পানীয় জলের ট্রাকটি আচমকাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকা চারচাকা গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা মারে, তারপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা পুকুরে উল্টে যায়। কিন্তু আসল রহস্য দানা বেঁধেছে অন্য জায়গায় ট্রাকের চালক গেল কোথায়? সে কি তলিয়ে যাওয়া গাড়ির কেবিনের ভেতরেই জলের নিচে আটকে রয়েছে, নাকি প্রাণভয়ে আগেই চম্পট দিয়েছে? সেই উত্তর মেলেনি।
খবর পেয়ে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্রেন দিয়ে জল থেকে ভারী ট্রাকটি তোলার কাজ তোড়জোড় করে শুরু করে। একই সঙ্গে চালকের খোঁজে পুকুরের জলে চলছে জোর তল্লাশি। ভোররাতের এই ভয়ঙ্কর সত্য ঘটনা পেছনে কি কেবলই অতিরিক্ত গতি, নাকি যান্ত্রিক গোলযোগ, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কিন্তু এই দুর্ঘটনার মাঝে গাড়ির চালকের কোনও হদিশ নেই। তাতেই বাড়ছে রহস্যের দানা। প্রশ্ন হাজারো উত্তর অধরা। পুলিশি তৎপরতাতেই ড্রাইভারের সন্ধান মিলবে রয়েছে আশা।