কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও নজরদারির মধ্যে আনতে নতুন উদ্যোগ। সল্টলেকের আরক্ষা ভবনে ট্রাফিক সদর দফতরে চালু হল রাজ্য পুলিশের নতুন LIVE ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম। শুক্রবার এই কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও রাজ্য সড়ক এবং শহরের ট্রাফিক পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কন্ট্রোল রুম উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন সরকারি পরিষেবায় লাইভ মনিটরিংয়ের প্রয়োজনীয়তা থেকেই ট্রাফিক ব্যবস্থার জন্য এমন একটি কেন্দ্র তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এবার রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে কোথায় যানজট তৈরি হচ্ছে এবং তার কারণ কী তা কেন্দ্রীয়ভাবে নজরে রাখা সম্ভব হবে।
ডানকুনি, ফরাক্কা, কালিয়াচক, ডালখোলা, ইসলামপুর-সহ একাধিক এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার কারণ খতিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাও এই নজরদারির আওতায় থাকবে। লাইভ ডেটা ও ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
শুধু নজরদারি নয়, সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর জন্যও নতুন ব্যবস্থা চালু করার কথা জানানো হয়েছে। ট্রাফিক সংক্রান্ত সমস্যা বা অভিযোগ সরাসরি প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দিতে একটি টোল-ফ্রি নম্বর ১৮০০৩৪৫৮৯২২ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল নম্বর লিঙ্ক এবং হোয়াটসঅ্যাপ পরিষেবাও চালুর কথা জানানো হয়েছে।
ট্রাফিক পুলিশের কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় থাকা ট্রাফিক কিয়স্কের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং অকার্যকর CCTV ক্যামেরাগুলিকে ফের সচল করার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন, রেল এবং পুলিশের মধ্যে আরও সমন্বয় করে ট্রাফিক সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিন রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও চেকপোস্ট পরিদর্শনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। পালসিট, ডানকুনি, ফারাক্কা ও ধুলাগড়-সহ বিভিন্ন জায়গার পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার কথা জানান তিনি। কিছু এলাকায় আরও কড়া নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করে সেগুলিকে ‘অ্যাকশন পয়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে।
পাহাড়ের ট্রাফিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। কালিম্পং ও দার্জিলিংয়ে পার্কিংয়ের সমস্যা নিয়ে বিকল্প জায়গা খুঁজে দেখার জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পাহাড়ের মূল রাস্তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পার্কিংয়ের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পার্কিং ব্যবস্থা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্কুল পড়ুয়াদের যাতায়াতের বিষয়টিও নজরে আনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পড়ুয়াদের যাতায়াতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নে এই বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। নতুন LIVE ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম কতটা কার্যকরভাবে যানজটের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে, এখন সেটাই নজরে থাকবে।