কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পরেই রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হল। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরকে উপনির্বাচনের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক বেছে নিতে হয়েছে। এর মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর পোস্টে উঠে এল নির্বাচন কমিশনের ফ্রি সিম্বল তালিকার ‘১১৬ নম্বর’ প্রতীকের প্রসঙ্গ।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আপাতত কোনও পক্ষই ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম বা দলের সংরক্ষিত প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই গোষ্ঠীকে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার মধ্যে পছন্দের তিনটি করে নাম এবং ফ্রি সিম্বল তালিকা থেকে তিনটি করে প্রতীকের বিকল্প জমা দিতে বলা হয়। এই ব্যবস্থা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীভাবে কার্যকর থাকবে।
এই পরিস্থিতিতেই কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, তাঁদের কাছে ‘মমতাদি’ই আসল পরিচয়। এরপরই প্রতিপক্ষ শিবিরকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘বালিশদের নেতা কে?’’ পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ফ্রি সিম্বল তালিকায় ১১৬ নম্বরে থাকা ‘বালিশ’ প্রতীক নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিপক্ষ চাইলে ওই প্রতীক বেছে নিতে পারে।
কুণালের পোস্টে শুধু প্রতীক প্রসঙ্গই নয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র আক্রমণ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে বিজেপির প্রভাব রয়েছে। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, জোড়াফুল প্রতীককে ঘিরে তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতি তৃণমূলের রাজনৈতিক লড়াইকে থামাতে পারবে না।
তৃণমূলের এই নেতা আরও দাবি করেন, দলীয় কর্মীদের আত্মবিশ্বাসী থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে দলের নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাঁর কথায়, আইনি ও কৌশলগত কিছু বিষয় রয়েছে, যা এখনই প্রকাশ্যে আনা হবে না। সময়মতো দলীয় নেতৃত্ব তা জানাবে।
কুণালের বক্তব্যে উঠে এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রসঙ্গও। তিনি দাবি করেন, দলের কাছে প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখই দলের মানুষের কাছে প্রধান পরিচয়। তাঁর কথায়, বহু বছর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন দল ও প্রতীক নিয়ে যে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতেও সেই লড়াই চলবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই গোষ্ঠীই নিজেদের আসল তৃণমূল হিসেবে দাবি করছে। সেই বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকে আলাদা নাম ও প্রতীকে উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে উপনির্বাচনের আগে ‘জোড়াফুল’ বিতর্ক এখন শুধু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে আটকে নেই। বিকল্প প্রতীক ঘিরে দুই শিবিরের রাজনৈতিক বার্তা এবং পাল্টা আক্রমণে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ছে।