দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: চোখের সামনে বদলে গিয়েছে রাস্তার ধারের একটি অংশ। যে জায়গায় কয়েক মাস আগেও দেখা গিয়েছে জল ও সবুজের উপস্থিতি, সেখানে এখন দেখা মিলছে নতুন করে নির্মাণের চিহ্ন। কিন্তু এই বদলটা শুধুমাত্র জমির চেহারাতেই থেমে থাকেনি। পাশে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি বড় গাছেও এসেছে অস্বাভাবিক পরিবর্তন। একই সঙ্গে একাধিক গাছের এমন অস্বাভাবিক পরিণতি দেখে স্থানীয়দের একাংশের মনে উঠেছে নানা প্রশ্ন।
ঘটনাটি মথুরাপুর-২ ব্লকের রায়দিঘী থানার হরিপুর ব্রীজ সংলগ্ন এলাকার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তার ধারে সারি সারি থাকা ইউক্যালিপটাস গাছগুলির মধ্যে ৬ টি গাছ অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গিয়েছে। গাছগুলির সমস্ত পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়েছে। বর্তমানে গাছগুলি প্রাণ হারাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। কিন্তু, হঠাৎ করে কেন এমন হচ্ছে? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, কয়েক মাস আগে রাস্তার ধারে একটি নয়ানজুলি এবং একটি পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে যেখানে বাড়ি ও প্রাচীরের নির্মাণ হয়। এরপরই সংলগ্ন থাকা বড় গাছগুলির মধ্যে এই ৬ টি গাছ শুকিয়ে প্রাণ হারানোর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
তবে, পুকুর বা নয়ানজুলি ভরাটের সঙ্গে গাছগুলির মৃত্যুর সরাসরি কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফলে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অনুমানের ভিত্তিতে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হোক। অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলেও এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্ত বা পদক্ষেপ দেখা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র গাছ গুলির মৃত্যুর কারণ নয় সেইসঙ্গে রাস্তার ধারের সরকারি জমি, নয়ানজুলি কিংবা পুকুর ভরাটের অভিযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সত্যিই কোনও নিয়ম ভেঙ্গে ভরাট হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা দরকার।
এদিকে, দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অশোক কান্ডারী জানান, তিনি এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেছেন। সময় করে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে, এখনও নিশ্চিত উত্তর জানা যায়নি। এই ৬ টি গাছ শুকিয়ে যাওয়ার কারণ কি শুধুমাত্র নিছক প্রাকৃতিক, নাকি সাম্প্রতিক জমি পরিবর্তনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রয়েছে, তার উত্তর মিলতে পারে তদন্তেই।