দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: রাতে নিস্তব্ধতায় এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল এক ব্যক্তি। পুলিশের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল একটি সূত্র, কিন্তু সেই সূত্র ধরে তদন্ত যত এগোয়, ততই যেন ঘনীভূত হতে থাকে রহস্য। রাস্তার ধারে থাকা একটি সাধারণ কাঠামোর দেখে শেষ পর্যন্ত নজর যায় পুলিশের। বাইরের থেকে দেখলে মনে হয় যার ভিতরে বিশেষ কিছু থাকার কথা নয়, সেখানে তল্লাশি চালাতে এমন কিছু সামনে এল, যা দেখে রীতিমত চমকে উঠলেন তদন্তকারীরা।
ঘটনাটি দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার মৌখালি কাছারিঘাট এলাকার। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাতে খবর আসে এক ব্যক্তি সন্দেহজনক ভাবে রাস্তায় ঘোরাফেরা করছে। পুলিশের কাছে আরও খবর আসে তাঁর কাছে বেআইনি কিছু থাকতে পারে। খবর পেয়ে এই অভিযানে নামে জিবনতলা থানার পুলিশ। এরপর আজিজুল মোল্লা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে দাবি, জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বদলে যায় তদন্তের গতিপথ। আজিজুল এর দেওয়া তথ্য অনুসরণ করে মৌখালী কাছারিঘাটে পৌঁছে যান পুলিশের তদন্তকারীদল। সেখানেই রাস্তার ধারে থাকা এক 'আলা'র দিকে নজর যায় পুলিশের। প্রথম দেখাতে জায়গাটি একেবারেই স্বাভাবিক লাগে। কিন্তু পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় শুরু করা হয় তল্লাশি। আর সেই তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে একটি লুকিয়ে রাখা দীর্ঘ আগ্নেয়াস্ত্র।
পুলিশের দাবি, ওই 'আলা'র ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১২৪ সেন্টিমিটার লম্বা তৈরি একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র। এরপর সেটিকে বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। কি উদ্দেশ্য এবং কার ব্যবহারের জন্য অস্ত্রটি সেখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, অস্ত্রটি পরিকল্পিতভাবে লোক চক্ষুর আড়ালে রাখা হয়েছিল। তবে, এর পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি, কোথা থেকে অস্ত্রটি এল এবং কার কাছ থেকে সেটি সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের এই অভিযানের পর এলাকায় বেআইনি অস্ত্র মজুতের বিষয়টি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় আজিজুল মোল্লার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলার রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁকে PC Prayer সহ আদালতে পেশ করা হবে। এখন, তদন্তের পরবর্তী ধাপে আর কি কি তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর সবার।