চীন, নিউজ ডেস্ক : সংস্কৃতির মেলবন্ধন, কর্মস্থলে চীনা কর্তাকে বিশ্বকর্মা পূজার রীতিনীতি শেখালেন হিন্দু কর্মীরা। কর্মস্থলে বিভিন্ন রাজ্যের ও দেশের মানুষ একসাথে মিলেমিশে কাজ করেন বেশিরভাগ জায়গাতেই। বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একত্রে মেতে ওঠেন তারা। সম্প্রতি তেমনই এক্স ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে প্রতি মন জয় করে নিয়েছে নেটিজেনদের।
দেখুন: https://x.com/Viglnthindutva/status/2101014723861037104?s=20
যে কোনও যন্ত্রাংশের সাথে কাজ মানেই সেখানে বিশ্বকর্মা পুজো হবেই। আর সেই বিশ্বকর্মাতেই দেখা গেল এক মন জয় করার দৃশ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রতি মন ভালো করা ও ব্যতিক্রমী মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা নেটিজেনদের মন ছুঁয়ে গেছে। এক্স-এ প্রকাশিত ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যাচ্ছে, সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মীরা তাঁদের কর্মস্থলে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আনন্দের সাথে চীনা বস বা ঊর্ধ্বতন কর্তাকে বিশ্বকর্মা পূজার রীতিনীতি শেখাচ্ছেন এবং নিজেও তাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা করছেন তিনি।
হিন্দু ধর্মে বিশ্বকর্মা দেবতাকে শিল্প, স্থাপত্য ও কারিগরি বিদ্যার দেবতা তথা ‘দেবশিল্পী’ হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রতি বছর কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, অফিস এবং কারিগরি কর্মশালাগুলিতে যন্ত্রপাতির পুজো এবং কর্মক্ষেত্রের সাফল্য কামনায় বিশ্বকর্মা পুজো মহা সমারোহে অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে ভিন্ন সংস্কৃতির এক বিদেশী কর্মকর্তার এই উৎসবে অংশগ্রহণ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি করেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুজোমণ্ডপে ধূপধুনো ও আরতির আবহে সনাতন ধর্মাবলম্বী কর্মীরা তাঁদের চীনা কর্মকর্তাকে হাতে আরতি নেওয়ার নিয়ম, দেবতাকে প্রণাম জানানোর ভঙ্গি এবং ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান বুঝিয়ে দিচ্ছেন। ভাষা ও ভৌগোলিক সংস্কৃতির ফারাক থাকলেও ওই কর্মকর্তা অত্যন্ত আগ্রহ, নম্রতা ও শ্রদ্ধার সাথে কর্মীদের নির্দেশ অনুসরণ করছেন এবং প্রার্থনা করছেন।
ভিডিওটি প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনদের অনেকেই এই মেলবন্ধনকে ‘সংস্কৃতির ইতিবাচক মেলবন্ধন’ বলে অভিহিত করেছেন। অনেকের মতে, বিশ্বায়নের যুগে কর্মক্ষেত্রে ভিন্ন সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের প্রতি এমন পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহাবস্থান প্রশংসনীয়। আবার অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতির গভীরতা ও সৌন্দর্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের মন জয় করতে সক্ষম।