কলকাতা: বাংলার আসন্ন উপনির্বাচনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনায় এলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সায়নী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও একইসঙ্গে আসন্ন ভোটের সমীকরণ নিয়েও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ভোটে শেষ কথা বলবে মানুষের সমর্থন এবং মাঠে থাকা রাজনৈতিক শক্তি।
তৃণমূলের দলীয় নাম ও দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পরেই এই মন্তব্য সামনে এসেছে। কমিশন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় দুই গোষ্ঠীকেই পুরনো ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহারে নিষেধ করেছে। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক পেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতীক-সংক্রান্ত সমস্যার প্রসঙ্গে সায়নী বলেন, মমতা একজন “উচ্চমানের নেত্রী” এবং এর আগেও একাধিক সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছেন। এবারও তিনি পরিস্থিতি সামলে উঠতে পারবেন বলে মনে করেন সায়নী। তবে নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে বিধানসভা উপনির্বাচন হওয়ার কথা। সেই ভোট প্রসঙ্গে সায়নী বলেন, “যারা শক্তিশালী, যারা মাঠে আছে, তাদের প্রতিই মানুষের সমর্থন থাকবে।” একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, যারা মানুষের জন্য কাজ করবে এবং মানুষের পাশে থাকবে, তাদেরই জয়ী হওয়া উচিত।
সায়নীর রাজনৈতিক অবস্থানও বর্তমানে বিশেষভাবে নজরে রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের পর তিনি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। ফলে প্রাক্তন দলের নেত্রীকে নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে উপনির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে একের পর এক পরিবর্তন ঘটছে। নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা জানান। অন্যদিকে, রেজিনগরেও মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল ইসলামকে ঘিরে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে দুই কেন্দ্রের ভোটের সমীকরণই শেষ মুহূর্তে বদলাতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
তবে ভোটের ফল কী হবে, তা নিয়ে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ এখনও নেই। প্রার্থীদের অবস্থান, দলীয় সমীকরণ এবং ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। আপাতত সায়নী ঘোষের মন্তব্য এবং মমতা শিবিরের নতুন প্রতীককে ঘিরেই উপনির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।