কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল নন্দীগ্রামে প্রার্থী প্রত্যাহার করে কংগ্রেসকে সমর্থনের ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলন প্রধান গ্রেফতার হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস। এবার সরাসরি এই গ্রেফতারিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ এবং ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে অভিযোগ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্যের পরই পাল্টা জবাব দিয়েছেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতিতে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর মমতা জানান, নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে তাঁর দল। দেশের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এরপরই কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনা সামনে আসে।
কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর পরেই এই গ্রেফতারি হয়েছে। দলের নেতারা দাবি করেন, বিরোধী দলগুলি একজোট হওয়ার পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এই আবহেই শুক্রবার রাতে সমাজমাধ্যমে সরব হন রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেন, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতারি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। তাঁর অভিযোগ, এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা এবং গণতন্ত্রের উপর আঘাত। বিজেপিকে নিশানা করে রাহুল আরও দাবি করেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিজেপির আস্থা নেই। তাঁর বক্তব্যে ‘ভোট চুরি’, ‘সরকার চুরি’ এবং ‘রাজনৈতিক দল চুরি’র মতো অভিযোগও উঠে আসে। একইসঙ্গে কংগ্রেস যে পিছিয়ে যাবে না, সেই বার্তাও দেন তিনি।
রাহুলের এই বক্তব্যের পরেই পাল্টা আক্রমণ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারই নির্বাচন কমিশন তাঁর নেতৃত্বাধীন শিবিরকে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে উপনির্বাচনে লড়ার অনুমতি দিয়েছে এবং ‘খাম’ প্রতীক বরাদ্দ করেছে।
ঋতব্রত সমাজমাধ্যমে দাবি করেন, তাঁদের শিবিরের পক্ষ থেকে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাঁর দাবি, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে তিনটি খুনের মামলা রয়েছে এবং নির্বাচনের সময় গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক। রাহুল গান্ধীর কাছে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব হয়তো মামলাগুলির বিস্তারিত তথ্য পৌঁছে দেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলির প্রকৃতি, গ্রেফতারির আইনি প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনের সঙ্গে এর কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। এখন নজর থাকবে, এই ঘটনাকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।