কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন ঘিরে ফের নাটকীয় মোড় বাংলার রাজনীতিতে। শুক্রবারই নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই আরও তীব্র হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা। মিলন প্রধানের গ্রেফতারির ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কংগ্রেস মুখপাত্র মিতা চক্রবর্তী।
এক নামী সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মিতা চক্রবর্তী বলেন, "আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করা হল।" কংগ্রেস মুখপাত্রের অভিযোগ, বিরোধীদের রাজনৈতিক পরিসর একটি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করে ভয় দেখানোর এবং সেই সঙ্গে থামানোর চেষ্টা চলছে। এ দিকে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, মিলনকে ঠিক কোন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানানো হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।
কংগ্রেসের আরেক প্রবীণ নেতার বক্তব্য, মিলনের বিরুদ্ধে অন্ততঃ ১২টি মামলা ঝুলে ছিল ছিল এতদিন। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামে ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের সময় থেকেই মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল। স্বভাবতই তাঁর প্রশ্ন— তা হলে এতদিন বাদে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই গ্রেফতার কেন? সব মিলিয়ে কংগ্রেসের বার্তাটি স্পষ্ট। তাদের অভিযোগ, মমতা সমর্থন জানানোর পরেই তাঁদের প্রার্থীকে গ্রেফতার করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ দিকে এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। শুক্রবার বিশ্বকর্মা পুজোর দিন মমতা জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রামে আলাদা করে কাউকে প্রার্থী করবে না। বরং কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকেই সমর্থন করবে। বিরোধী জোটের বৃহত্তর ঐক্যের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। পুজোর আগেই আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। এর আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে দলের পূর্বতন নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
মমতা-শিবিরকে দেওয়া হয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম। যাদের প্রতীক ফুটবল খেলোয়াড়। পাশাপাশি নন্দীগ্রামে মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-ও মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। ফলে সেখানে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে সঞ্চিতার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘিরেও জল্পনা তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। সব মিলিয়ে ভোটের আগেই নন্দীগ্রামে বদলে যাচ্ছে রাজনীতির যাবতীয় হিসাব নিকাশ। আর তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করল কংগ্রেস দলের তরফে মুখপাত্রের এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। এর জল কতদূর গড়ায়, এ বার সেটাই দেখার।




