নিউজ ডেস্ক: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) কার্যকরের প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়াতে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া জেলায় মোট ১২ জন IAS আধিকারিককে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই খবর সামনে আসতেই মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের মধ্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার নদিয়ার মোল্লাবলিয়া এলাকায় ডঙ্কা ও কাঁসর বাজিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। সেই উৎসবে যোগ দেন হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারও। শুধু অংশগ্রহণই নয়, নাগরিকত্বের প্রত্যাশা ও মতুয়াদের দীর্ঘদিনের লড়াইকে কেন্দ্র করে গানও বাঁধেন তিনি।
উৎসবে উপস্থিত মতুয়াদের বক্তব্য, সিএএ-তে নাগরিকত্বের আবেদন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা ও অনিশ্চয়তা ছিল। আবেদন জমা দেওয়ার পর নাগরিকত্বের শংসাপত্র কবে মিলবে, তা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল। এবার দুই জেলায় বিশেষ দায়িত্বে IAS আধিকারিকদের নিয়োগের সিদ্ধান্তে সেই প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি গান রচনা করেছেন অসীম সরকার। গানের কথায় উদ্বাস্তু মতুয়াদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার এবং আনন্দের পরিবেশের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর গানে উঠে এসেছে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার বার্তা।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বনগাঁর ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সিএএ-তে আবেদন করা মতুয়াদের ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সেই ঘোষণার পরই প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নবান্নের নির্দেশে উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়া—দুই জেলার জন্য ছয়জন করে মোট ১২ জন IAS আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর পদে কর্মরত। আগামী দু’মাস সংশ্লিষ্ট দুই জেলার প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থেকে সিএএ সংক্রান্ত কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখবেন তাঁরা।
প্রশাসনিক এই পদক্ষেপের পর নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদী মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ। এখন ডিসেম্বরের ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে কতটা কাজ এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।




