নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন পুরভোটের দামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দিনটিকে যোগ্যতার ভিত্তি বা ‘কাট-অফ ডেট’ ধরে গোটা রাজ্যে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন। এই সামগ্রিক প্রক্রিয়ার রূপরেখা চূড়ান্ত করতে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিতে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক-এর দফতর।
সূত্রের খবর, কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে অবস্থিত সিইও দফতরের তিনতলার কনফারেন্স কক্ষে ৩ নভেম্বর দুপুর ৩টে নাগাদ এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আসর বসছে। বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিআই(এম), কংগ্রেস, আপ ও বিএসপি-সহ রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি দলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক কিংবা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিতে পারবেন। তবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলপিছু সর্বোচ্চ তিন জন প্রতিনিধির উপস্থিতির সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূচি বলছে, আগামী ২৩ নভেম্বর রাজ্যে প্রকাশিত হতে চলেছে সংশোধিত খসড়া ভোটার তালিকা। খসড়া তালিকা প্রকাশের দিনের কর্মসূচি, সেখানে থাকা তথ্য যাচাই, নাম সংযোজন-বিয়োজন এবং সামগ্রিক সংশোধনের পরবর্তী পদক্ষেপগুলি কী হবে তা বিস্তারিতভাবে এদিনের বৈঠকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সামনে তুলে ধরবেন আধিকারিকরা।
এদিকে এই ভোটার তালিকা সংশোধনের তৎপরতার মাঝেই প্রশাসনিক মহলে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে পুরসভা নির্বাচনের আবহ। প্রশাসনিক সূত্রের ইঙ্গিত, চলতি মাসের ১০ নভেম্বরের পরেই রাজ্যে পুরভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন খসড়া ভোটার তালিকা এবং বুথ তালিকা নিয়ে নিজেদের স্তরে প্রাথমিক সর্বদলীয় পর্যালোচনা সেরে ফেলেছে। স্বাভাবিক নিয়মে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আত্মপ্রকাশ করার কথা।
তবে কমিশন সূত্রে স্পষ্ট বার্তা মিলেছে, আইনি জটিলতা বা কোনও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার অজুহাতে পুরভোট পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নয় প্রশাসন। রাজ্য সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রেখে চলতি নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে যাবতীয় পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখছে কমিশন।




