কলকাতা: কলকাতা ও হাওড়ার পুরসভা নির্বাচন কি পিছিয়ে যেতে চলেছে? নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সূচি সামনে আসতেই এই প্রশ্ন ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ডিসেম্বর তো বটেই, জানুয়ারির শেষেও ভোট আয়োজন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধন, জনগণনার কাজ এবং মাধ্যমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য নতুন সূচি—এই তিনের সমন্বয়ই এখন পুরভোটের সময় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কলকাতা উত্তরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, সংশোধিত ভোটার তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হবে ২০২৭ সালের ১৬ জানুয়ারি। ফলে নতুন তালিকা অনুযায়ী ভোট করাতে হলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন কার্যত কঠিন। কারণ, কোন ভোটার কোন বুথে ভোট দেবেন, কার নাম তালিকায় যুক্ত হবে বা বাদ যাবে, সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়া জরুরি।
কবে প্রকাশিত হবে নতুন ভোটার তালিকা?
নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত সূচি অনুযায়ী, ১৩ নভেম্বরের মধ্যে পোলিং স্টেশন পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করার কথা। ২৩ নভেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। এরপর ২৩ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত নাম সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ৮ জানুয়ারির মধ্যে সেই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করতে হবে। সবশেষে ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
তবে মনে রাখতে হবে, পোলিং স্টেশনের পুনর্বিন্যাস এবং পুরসভার ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্নির্ধারণ এক বিষয় নয়। দু'টি সম্পূর্ণ আলাদা প্রক্রিয়া। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করার বিষয়টিও আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচিও বড় ফ্যাক্টর
২০২৭ সালের জনগণনার কাজের জন্য শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের প্রয়োজন হবে। সেই কারণে মাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে মার্চের শুরুতে করার প্রস্তাব সামনে এসেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন এখনও বাকি।
জানুয়ারি নাকি ফেব্রুয়ারি?
১৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর মনোনয়ন, যাচাই, প্রত্যাহার এবং প্রচারের জন্য সময় দিতে হবে। ফলে জানুয়ারির শেষদিকে ভোট আয়োজন কতটা সম্ভব, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ভোট হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসছে।
তবে এখনও পুরভোট পিছিয়ে দেওয়ার কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। ভোটের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির উপর।




