নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বিরোধী দলগুলিকে একযোগে আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দার্জিলিঙে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির মঞ্চ থেকে বিরোধীদের ‘ফোর-জি’, ‘থ্রি-জি’ এবং ‘টু-জি’ পার্টি বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে দাবি করেন, মোদী যতদিন দেশের নেতৃত্বে থাকবেন, ততদিন বিরোধী দলগুলি কোনও নির্বাচনে জিততে পারবে না।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি মূলত পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাঁর ব্যাখ্যায়, ‘ফোর-জি’ বলতে তিনি চাচা জওহরলাল নেহরু, তাঁর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী, ছেলে রাজীব গান্ধী এবং রাজীব-পুত্র রাহুল গান্ধীকে বুঝিয়েছেন। ‘থ্রি-জি’ বলতে শেখ আবদুল্লাহ, ফারুক আবদুল্লাহ এবং ওমর আবদুল্লাহর পরিবারকে নিশানা করেন তিনি। আর ‘টু-জি’ প্রসঙ্গে তৃণমূলের পিসি-ভাইপো এবং মুফতি মহম্মদ সৈয়দ ও মেহবুবা মুফতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
মোদীকে নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
বিরোধীদের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অভিযোগের বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, মোদীর কাছে ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দেশই অগ্রাধিকার পায়। রামমন্দির নির্মাণ এবং অযোধ্যায় প্রাণপ্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
রামলীলা ময়দানের সমাবেশ নিয়েও আক্রমণ
দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক জমায়েতকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, নির্বাচনে পরাজিত বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি একজোট হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই শক্তিগুলি দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চাইছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তাঁদের পিসি-ভাইপো বলে আক্রমণ করেন তিনি।
বক্তব্যে বিরোধীদের উদ্দেশে একাধিক বিতর্কিত শব্দও ব্যবহার করেন মুখ্যমন্ত্রী। জেহাদি, মাওবাদী এবং নকশালপন্থীদের সঙ্গে বিরোধী শিবিরের যোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
শেষে বিরোধীদের নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ক্ষমতায় আসতে হলে নির্বাচনে জিততে হয়। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন বিরোধী দলগুলির পক্ষে নির্বাচনে জয় পাওয়া সম্ভব হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি রাজ্যেও নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।




