পঞ্চকুলা: স্কুলের ক্লাসরুমে সহপাঠীর উপর এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল হরিয়ানার পঞ্চকুলায়। মাত্র ছয় বছরের এক শিশুকে পাথর, ফুলের টব এবং ভারী বস্তু দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃতীয় শ্রেণির এক পড়ুয়ার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এই ঘটনার পিছনে হিংসাত্মক অনলাইন গেমের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করেছে আক্রান্তের পরিবার। বিশেষ করে PUBG-র মতো গেমে অভিযুক্ত পড়ুয়া আসক্ত ছিল বলে অভিযোগ।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ফাঁকা ক্লাসরুমে আট বছরের পড়ুয়া ছয় বছরের শিশুটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর তার মাথা বেঞ্চে ঠুকে দেওয়া হয়। মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরেও চলতে থাকে মারধর। অভিযোগ, পাথর ও ফুলের টব দিয়েও শিশুটির মাথা ও শরীরে আঘাত করা হয়। প্রায় দেড় মিনিট ধরে এই হামলা চলে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে চণ্ডীগড়ের PGIMER হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর তার জ্ঞান ফেরে। বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে সে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের আচরণের প্রতিবাদ করাতেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।
অনলাইন গেমের নেশাই কি হামলার কারণ?
আক্রান্ত শিশুর কাকা ফাজিলের দাবি, অভিযুক্ত পড়ুয়া নিয়মিত PUBG-র মতো হিংসাত্মক অনলাইন গেম খেলত। অভিযুক্তের বাবাও নাকি এই গেমে আসক্তির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যদিও হামলার প্রকৃত কারণ এবং গেমের সঙ্গে ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ।
স্কুলের দুই শিক্ষক সাসপেন্ড
ঘটনার পরই পদক্ষেপ করেছে হরিয়ানা প্রশাসন। দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের দুই JBT শিক্ষককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা শিক্ষা আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্য শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশন।
ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে হরিয়ানা সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী মহিপাল ধান্ডা জানিয়েছেন, দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
একটি স্কুলের ক্লাসরুমে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় কোথায় ছিল নজরদারি এখন সেই প্রশ্নই সামনে আসছে।




