নয়াদিল্লি: দীপাবলির মরসুমে আর কোনও বিক্ষোভ, মিছিল বা ধর্না চাইছেন না দিল্লির ব্যবসায়ীরা। উৎসবের বাজারে লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচির জেরে বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে এবার সরাসরি পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হল বণিকসভা। আগামী ১১ নভেম্বর, অর্থাৎ ভাইফোঁটা পর্যন্ত দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে সমস্ত ধরনের সমাবেশ, মিছিল ও ধর্না বন্ধ রাখার দাবি জানানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফের ব্যবসার ক্ষতি হলে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজকদের হাতে দোকানের চাবি তুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (CTI) এই মর্মে দিল্লির পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারকে চিঠি পাঠিয়েছে। সংগঠনের দাবি, গত ১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লির ব্যবসায়ীদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। উৎসবের মরসুমে এই বিপুল লোকসান সামাল দেওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না বলেই দাবি তাদের।
কেন ক্ষুব্ধ দিল্লির ব্যবসায়ীরা?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে দিল্লিতে বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। কখনও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, কখনও নির্বাচন সদন অভিযান, আবার কখনও সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল—একাধিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গত রবিবার রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া'-র সমাবেশ ঘিরেও আপত্তি জানিয়েছিল ব্যবসায়ী সংগঠন। তাদের দাবি, ওই সমাবেশের কারণে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও যন্তর মন্তর, কনট প্লেস, পটেল চক এবং জনপথ সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন বিক্ষোভের জেরে আরও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।
দোকানের চাবি তুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি!
সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়ল পুলিশ কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যবসায়ীরা আর নতুন করে কোনও লোকসান সামাল দেওয়ার অবস্থায় নেই। দীপাবলির বাজারেও যদি বিক্ষোভের কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আন্দোলনের আয়োজকদের হাতে দোকানের চাবি তুলে দেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না।
কোন কোন এলাকায় বিক্ষোভ বন্ধের দাবি?
কনট প্লেস, যন্তর মন্তর, রামলীলা ময়দান, ইন্ডিয়া গেট, রাজঘাট এবং দিল্লি গেটের আশপাশে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত কোনও প্রতিবাদ মিছিল বা সমাবেশের অনুমতি না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে CTI। বিকল্প হিসেবে বুরাড়ি, আলিপুর, জাসোলা এবং যমুনা খাদারের মতো অপেক্ষাকৃত দূরের এলাকাগুলিতে বিক্ষোভ আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।
বণিকসভার হিসাব অনুযায়ী, দিল্লিতে প্রায় ২০ লক্ষ ব্যবসায়ী এবং ৭৫ লক্ষ কর্মীর জীবিকা আগামী কয়েক দিনের উৎসবের বাজারের উপর নির্ভরশীল। রবিবারের সমাবেশের দিন প্রায় ২০-২৫টি বাজার এলাকার তিন লক্ষ দোকানের মধ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ দোকান বন্ধ ছিল বলেও দাবি সংগঠনের।
সব মিলিয়ে, একদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদের অধিকার, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের আর্থিক স্বার্থ এই দুইয়ের সংঘাত এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীপাবলির আগে দিল্লির বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে বিক্ষোভ নিয়ে পুলিশ প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার।




