নয়াদিল্লি: প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোনও জায়গা দখল করে রাখা যাবে। দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের বিক্ষোভ ঘিরে এবার এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এই বিক্ষোভের জেরে ব্যবসায়ীদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছে জবাব তলব করেছে শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবারের এই নির্দেশ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির বিক্ষোভের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ বন্ধ করার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে একাধিক ব্যবসায়ী সংগঠন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিক্ষোভ চলায় আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন এবং ব্যবসায়িক কার্যকলাপ কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, প্রত্যেকেরই প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময়সীমা থাকা প্রয়োজন। কোনও একটি জায়গা অনির্দিষ্টকালের জন্য দখল করে রাখা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ করে আদালত।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্য, কৃষক, সাংবাদিক-সহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষেরও প্রতিবাদ জানানোর অধিকার রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়ার ব্যবস্থা থাকা উচিত।
৫০ লক্ষ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত?
আবেদনকারীদের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী মুকুল রোহতগি আদালতে জানান, বিক্ষোভের প্রভাব পড়ছে রামলীলা ময়দানের আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায়। ওই অঞ্চলে প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষের বসবাস। তাঁর দাবি, বিক্ষোভের কারণে বহু দোকান বন্ধ রয়েছে। এমনকী মঙ্গলবার দিল্লির কনট প্লেসেও কার্যত জনমানবশূন্য পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি চলায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।
বিরোধী দলগুলিকেও মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, যে রাজনৈতিক দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছে, তাদেরও মামলার পক্ষ করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছেও জবাব চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবরও নির্বাচন কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছে জবাব চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী শিবিরের ১২ জন নেতার আবেদনের ভিত্তিতে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়ায় ব্যাপক হারে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া এবং অনিয়মের অভিযোগ তুলেছিলেন তাঁরা।
সব মিলিয়ে, একদিকে প্রতিবাদের অধিকার, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও ব্যবসায়িক স্বার্থ,দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল শীর্ষ আদালত। এবার কেন্দ্র ও অন্যান্য পক্ষের জবাবের দিকে নজর থাকবে।




