নয়াদিল্লি: দীপাবলির আগে বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে বিমান টিকিটের দাম দেখে রীতিমতো মাথায় হাত পড়তে পারে! উৎসবের মরশুমে দেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটে বিমানভাড়া একলাফে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি এমনই যে দিল্লি থেকে কলকাতা যাওয়ার যে টিকিট সাধারণত ১০-১১ হাজার টাকায় পাওয়া যায়, ৬ নভেম্বরের জন্য তার দাম পৌঁছেছে ৭৮,৬৯৪ টাকায়! শুধু দিল্লি-কলকাতা নয়, মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ একাধিক রুটেও আকাশছোঁয়া ভাড়া। এই অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়েছে। যদিও জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করেছে শীর্ষ আদালত।
কেন হঠাৎ এত বাড়ল বিমানভাড়া?
বিমানভাড়া বৃদ্ধির পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট জ্বালানির দাম বেড়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে প্রতি লিটার এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF-এর দাম ছিল ৬০.৫০ টাকা। মে মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪২ টাকা। অর্থাৎ, প্রায় আড়াই গুণ বৃদ্ধি।
বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই খরচ হয় জ্বালানির পিছনে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই খরচ আরও বেড়ে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টিকিটের দামে।
দ্বিতীয় কারণ পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ থাকা। ভারতীয় বিমানের জন্য আকাশসীমা ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়েছে পাকিস্তান। ফলে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্য এশিয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিকে দীর্ঘ পথ ঘুরে উড়তে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ এবং পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতি মাসে অতিরিক্ত প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা খরচ হতে পারে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির।
এর পাশাপাশি রয়েছে ডায়নামিক প্রাইসিং। অর্থাৎ, বিমানের আসন যত কমতে থাকে এবং চাহিদা যত বাড়ে, টিকিটের দামও তত বাড়তে পারে।
কোন রুটে কত টাকা ভাড়া?
আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬ নভেম্বরের জন্য বিভিন্ন রুটে ভাড়ার চিত্র বেশ উদ্বেগজনক।
- দিল্লি-কলকাতা: সাধারণত ১০-১১ হাজার টাকা, বেড়ে ৭৮,৬৯৪ টাকা।
- মুম্বই-দিল্লি: ১১,৫৩১ টাকা থেকে বেড়ে ৬০,৫৭৭ টাকা।
- দিল্লি-মুম্বই: ৫,২২৩ টাকা থেকে বেড়ে ২৬,৭৯৩ টাকা।
- বেঙ্গালুরু-দিল্লি: ভোরের বিমানে প্রায় ১৫,৯০১ টাকা, বিকেলের বিমানে ৪০,৫০৬ টাকা।
সুপ্রিম কোর্টে কী হল?
২ নভেম্বর বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি অপারেশ কুমার সিংয়ের বেঞ্চে মামলাটি উল্লেখ করা হয়। আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, দীপাবলির আগে বিমানভাড়া ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিমান পরিষেবা জরুরি পরিষেবা হওয়ায় এমন ভাড়াবৃদ্ধি সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলেও দাবি করা হয়।
জবাবে বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, “বিমানে যাতায়াত করবেন না। পরের মামলা বলুন।” এরপর জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। তবে মূল জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ হয়নি। আগামী ১৬ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
সব মিলিয়ে, উৎসবের মরশুমে আকাশছোঁয়া বিমানভাড়া সাধারণ যাত্রীদের পকেটে বড়সড় চাপ তৈরি করছে। এখন দেখার, আগামী দিনে এই ভাড়াবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে কোনও পদক্ষেপ করা হয় কি না।




