নিউজ ডেস্ক : বাইরে থেকে ঝাঁ চকচকে হোটেল, ভিতরে সাজানো খাবারের বাহারি মেনু। ক্রেতাদের ভিড়ও নেহাত কম নয়। কিন্তু সেই খাবার তৈরীর পিছনে কি চলছে, তা ভাবতেও পারেননি অনেকে। কোথাও খাবারের স্তুপ, কোথাও অপরিচ্ছন্ন ফ্রিজ। আর সেই ফ্রিজের ভিতরেই লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু জিনিস, যা দেখে রীতিমতো হতবাক তদন্তকারীরা।
মঙ্গলবার দুর্গাপুরের মুচিপাড়া এলাকার একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় যৌথ অভিযান চালায় রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দফতর, দুর্গাপুর নগর নিগম এবং পুলিশ। বিভিন্ন হোটেলের রান্নাঘর এবং খাবার সংরক্ষণের জায়গায় তল্লাশি চালাতে সামনে আসে চরম অসাস্থ্যকর পরিবেশের ছবি। উদ্ধার হয় বহু দিনের পুরনো বাসি খাবার থেকে শুরু করে পচনধরা খাদ্য সামগ্রী।
অভিযান চলাকালীন কোথাও ফ্রিজের ভিতরে পাওয়া যায় ছত্রাক ধরা চিকেন, কোথাও আবার পনিরের গায়ে জন্মেছে ফাঙ্গাস। শুধু তাই নয় বহুদিন ধরে সংরক্ষণ করে রাখা বাসি ভাত, তরকা, চানা মশলা এবং বিভিন্ন ধরনের পুরনো মসলাও উদ্ধার করেন আধিকারিকরা। যে খাবারগুলি গ্রাহকদের পরিবেশন করা হতে পারত, সেগুলির অবস্থা দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের প্রতিনিধিরা।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয়, মানুষের খাওয়ার খাবারের সঙ্গে একই ফ্রিজে রাখা ছিল কুকুরের খাবারও। খাবার সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ন্যূনতম স্বাস্থ্য বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। তদন্তকারীদের নজরে এসেছে ফ্রিজে রাখা খাবারের গায়ে নির্দিষ্ট কোনও ম্যানুফ্যাকচারিং বা এক্সপায়ারি ডেটের কোনও ট্যাগ ছিল না। এমনকি কোন খাবার কবে তৈরি হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম এভাবে লঙ্ঘিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট হোটেল গুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। নোটিশ জারির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, দিনের পর দিন এভাবে খাবার পরিবেশন করা হলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা কোথায়? রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে ক্রেতারা পরিচ্ছন্নতা ও গুণমানের ওপর ভরসা করেন। সেই বিশ্বাসের আড়ালে এমন অসাস্থ্যকর পরিস্থিতি সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।




