ঝাড়গ্রাম: প্রায় ১০ বছর আগের একটি রাজনৈতিক সভা। সেই সভায় দেওয়া বক্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। আর সেই পুরনো মামলাতেই এবার ঝাড়গ্রাম আদালতে হাজিরা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হয়ে বিচারকের একাধিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় তাঁকে। ২০১৬ সালের সেই ঘটনা ফের একবার রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর ঝাড়গ্রামে একটি রাজনৈতিক সভার আয়োজন করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। সেই সভায় তাঁর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত। তৎকালীন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছিল। তাঁর কথায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানোর পাশাপাশি একাধিক অসঙ্গতিও ছিল বলে দাবি করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ করা হয়। তৃণমূল নেতা সুমন সাহু ঝাড়গ্রাম থানায় দিলীপ ঘোষ এবং তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘদিন ধরেই সেই মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছিল?
অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে ৩৪১ ধারা, যেখানে বেআইনিভাবে পথ আটকানোর অভিযোগের বিষয়টি রয়েছে। এছাড়াও ৫০৫ ধারায় জনসাধারণের মধ্যে উস্কানিমূলক বক্তব্য ছড়ানো, ৫০৬ ধারায় অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং ১২০বি ধারায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছিল। পাশাপাশি বেআইনি অস্ত্র আইনের ২৫ ও ২৭ নম্বর ধারাতেও মামলা রুজু করা হয়।
আদালতে কী হল মঙ্গলবার?
মঙ্গলবার ছিল এই মামলার শুনানির দিন। সেই কারণে আদালতে হাজির হন দিলীপ ঘোষ-সহ অন্যান্য অভিযুক্তরা। শুনানি চলাকালীন বিচারক দিলীপ ঘোষকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন বলে জানা গিয়েছে। সেই প্রশ্নগুলির উত্তরও দেন তিনি। তবে এদিনই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।
দিলীপ ঘোষের আইনজীবী অর্চিষ্মান সিনহা জানিয়েছেন, বিচারক এদিন তাঁকে কয়েকটি প্রশ্ন করেন এবং সেই প্রশ্নের ভিত্তিতেই শুনানি হয়। মূলত রাজনৈতিক উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মামলাটি চলছে। পরবর্তী দিনে আদালতে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য শোনা হবে।
২০১৬ সালের রাজনৈতিক সভাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই মামলা প্রায় এক দশক পরেও আদালতে বিচারাধীন। আগামী শুনানিতে কী উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও সংশ্লিষ্ট সকলের।




