নিজস্ব প্রতিবেদন: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের টাকা কি চিকিৎসার বদলে মাদক পাচার এবং রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে? মালদহের নার্সিংহোমগুলিকে ঘিরে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌড়িশঙ্কর ঘোষ। একই অভিযোগে সরব হয়েছেন বিধানসভার চিফ হুইপ অম্লান ভাদুড়িও। তাঁদের এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ব্যবহার নিয়ে।
অভিযোগ, গত পাঁচ থেকে সাত বছরে মালদহে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে একের পর এক বেসরকারি নার্সিংহোম। বিশেষ করে মালদহ শহরের গাবগাছি এলাকায় নার্সিংহোমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দাবি করা হচ্ছে, মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যে গত পাঁচ বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০টি নার্সিংহোম তৈরি হয়েছে। এত কম জায়গার মধ্যে এতগুলি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান কীভাবে গড়ে উঠল, তাদের পরিকাঠামো এবং অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
মন্ত্রী গৌড়িশঙ্কর ঘোষের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তার একটি অংশ মাদক পাচার এবং রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। বিধানসভার চিফ হুইপ অম্লান ভাদুড়িও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্যের পর মালদহের নার্সিংহোমগুলির আর্থিক লেনদেন ও স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের টাকা ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসেও মালদহে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বড়সড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছিল। রোগী ভর্তি ও চিকিৎসার ভুয়ো তথ্য দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগে জেলা জুড়ে তদন্ত শুরু হয়েছিল। সেই সময় ৩০টিরও বেশি নার্সিংহোমের লাইসেন্স সাসপেন্ড এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে শোকজ করার খবর প্রকাশ্যে আসে। স্বাস্থ্য দফতরের প্রাথমিক হিসাবেও কয়েকশো কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছিল।
তবে স্বাস্থ্যসাথীর টাকা মাদক পাচার বা রাষ্ট্রবিরোধী কাজে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল সামনে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক নেতাদের অভিযোগ এবং তদন্তে প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি।
এখন প্রশ্ন, গাবগাছি-সহ মালদহের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা নার্সিংহোমগুলির পরিকাঠামো, অনুমোদন ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।




