স্পোর্টস ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে পদক জিততে পারেনি ভারতীয় ব্যাডমিন্টন দল। সেই ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই ইউরোপ সফরে আর্থিক সমস্যার মুখে পড়তে হল পিভি সিন্ধু, লক্ষ্য সেন-সহ দেশের একাধিক তারকা শাটলারকে। পরিস্থিতি এমনই যে, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিজেদের পকেট থেকেই খরচ করতে হয়েছে তাঁদের। ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের তরফে নির্ধারিত সময়ে অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় এই সমস্যার সূত্রপাত। বিষয়টি জানার পর বিস্মিত হয়েছেন সিন্ধু নিজেও। তবে এই অর্থ আটকে যাওয়ার সঙ্গে এশিয়ান গেমসে ভারতের হতাশাজনক ফলের কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
২০২৬ সালের আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ব্যাডমিন্টনে ভারতের প্রাপ্তি ছিল মাত্র একটি পদক। পুরুষদের দলগত বিভাগে এসেছিল ব্রোঞ্জ। সিঙ্গলস-সহ একাধিক বিভাগে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি ভারতীয় খেলোয়াড়েরা। তার পরেই সিন্ধু ও লক্ষ্য সেন ইউরোপ সফরে নিজেদের চেনা ছন্দে ফেরেন। গত সপ্তাহে জার্মানির সারব্রুকেনে অনুষ্ঠিত হাইলো ওপেনে মহিলাদের সিঙ্গলসে চ্যাম্পিয়ন হন সিন্ধু। পুরুষদের সিঙ্গলসে খেতাব জেতেন লক্ষ্য। চলতি বছরে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সফরে এটি সিন্ধুর দ্বিতীয় খেতাব। কিন্তু সাফল্যের মাঝেও তাঁদের সফরের খরচ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছিল, এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার কারণেই হয়তো ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ অর্থ বরাদ্দে কাটছাঁট করেছে। কিন্তু সূত্রের দাবি, বাস্তব কারণ সম্পূর্ণ আলাদা। ভারতীয় ব্যাডমিন্টন সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব জমা দিতে পারেনি। সেই কারণেই অর্থ ছাড়তে দেরি হয়েছে। ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিভিন্ন সংস্থা প্রায়ই শেষ মুহূর্তে প্রস্তাব পাঠায়। পরে অর্থ না পেলে দায় চাপানো হয় কর্তৃপক্ষের উপর। অথচ সময়সীমা মেনে প্রয়োজনীয় নথি ও খেলোয়াড়দের তালিকা জমা দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থারই।
সিন্ধু জানিয়েছেন, অর্থ বরাদ্দ না হওয়ার খবর শুনে তিনি রীতিমতো অবাক হয়েছিলেন। আগে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে। তাঁর স্পনসররা হোটেলে থাকার খরচের একাংশ বহন করেন। বাকি খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নিজের পকেট থেকেই সামলাতে হয়েছে। অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্টও তাঁকে আর্থিক সাহায্য করেছে। ব্যাডমিন্টন সংস্থার তরফে খেলোয়াড়দের হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও অন্যান্য খরচ নিজেদেরই বহন করতে হয়েছে শাটলারদের।
তবে অর্থের অভাবে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবেননি সিন্ধু। তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল কোর্টে নামা, ম্যাচে মন দেওয়া এবং নিজের খেলায় উন্নতি করা। প্রশ্ন উঠছে, দেশের সেরা খেলোয়াড়দের বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়ে যদি ব্যক্তিগত অর্থের উপর নির্ভর করতে হয়, তা হলে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি কীভাবে এগোবে?




