স্পোর্টস ডেস্ক: আইপিএলে আগুনে ফর্মে ছিলেন। ১৬ ম্যাচে নিয়েছিলেন ২৮টি উইকেট। সেই পারফরম্যান্সের সুবাদেই চার বছর পর ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন কোথায়! নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে চারটি ম্যাচ খেলে তাঁর ঝুলিতে মাত্র একটি উইকেট। খরচ করেছেন ওভারপ্রতি ১১.৫০ রান। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ভুবনেশ্বরের জাতীয় দলে ফেরার দরজা কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেই মনে করছেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। বরং এই মুহূর্তে মহম্মদ শামিকেই বেশি ছন্দে দেখছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার।
নিজের ইউটিউব অনুষ্ঠানে ভুবনেশ্বরের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন অশ্বিন। তাঁর মতে, আইপিএলে যে আগ্রাসন এবং ধার নিয়ে বল করছিলেন ভুবনেশ্বর, নিউজিল্যান্ড সফরে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। অশ্বিনের কথায়, আইপিএলের ভুবনেশ্বর আর নিউজিল্যান্ডের ভুবনেশ্বরের মধ্যে ছিল আকাশ-পাতাল তফাত। জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেয়েও নিজের ফর্মের প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। তাই তাঁর প্রত্যাবর্তনের অধ্যায় হয়তো শেষের পথে।
শুধু উইকেট না পাওয়া কিংবা অতিরিক্ত রান দেওয়াকেই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দেখছেন না অশ্বিন। তাঁর সবচেয়ে বেশি হতাশা ভুবনেশ্বরের বোলিংয়ের তীব্রতা নিয়ে। আইপিএলে যে গতিতে দৌড়ে এসে বল করতেন, নিউজিল্যান্ডে সেই দৌড়ের গতি অনেক কম ছিল। বলের গতিতেও তার প্রভাব পড়েছে। অশ্বিনের মতে, এমন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের কাছ থেকে আরও ভালো প্রস্তুতি এবং শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণ প্রত্যাশিত। নতুন কোনও তরুণ ক্রিকেটার হলে নির্বাচকেরা একাধিক সুযোগ দিতে পারেন। কিন্তু অভিজ্ঞ কাউকে প্রত্যাবর্তনের পরই নিজেকে প্রমাণ করতে হয়।
এই পরিস্থিতিতে শামির প্রত্যাবর্তনের পক্ষে সওয়াল করেছেন অশ্বিন। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন বাংলার পেসার। তবে চলতি রনজি ট্রফিতে বাংলার হয়ে বল হাতে বেশ ছন্দে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। অশ্বিনের মতে, শামির বোলিংয়ে যে ছন্দ এবং ধার রয়েছে, তা এই মুহূর্তে ভুবনেশ্বরের চেয়ে অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক। ফলে নির্বাচকদের ভাবনায় শামি জায়গা করে নিতে পারেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
ডিসেম্বরে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে ভারত। তার আগে বোলিং বিভাগে নতুন করে ভাবনাচিন্তার অবকাশ তৈরি হল। ভুবনেশ্বর কি আবার সুযোগ পাবেন, নাকি শামির অভিজ্ঞতাতেই ভরসা রাখবে দল? আপাতত সেই প্রশ্নই ঘুরছে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে।




