স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতের মাটিতে প্রথমবার অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগোল। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করা সাতটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিল ভারত। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) জানিয়েছে, ভারত-সহ সাতটি দেশের জাতীয় অলিম্পিক কমিটি এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রীড়া আসর দেশে আনার লক্ষ্যে ভারতের সামনে খুলে গেল নতুন সম্ভাবনার দরজা।
ভারত ছাড়াও তালিকায় রয়েছে জার্মানি, হাঙ্গেরি, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং তুরস্ক। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আগ্রহ জানানোর প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এই সাতটি দেশের নাম নিশ্চিত করেছে আইওসি। নতুন করে আর কোনও দেশ আলোচনায় যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেনি। এখন সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে এই দেশগুলিকে নিয়ে একাধিক পর্যায়ে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালাবে অলিম্পিকের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা।
২০২৬ সালের নভেম্বরেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির কথা আইওসির কাছে তুলে ধরার কথা আগ্রহী দেশগুলির। সেই উপস্থাপনার পর শুরু হবে পরবর্তী পর্যায়ের মূল্যায়ন। তবে তালিকায় নাম থাকা মানেই অলিম্পিক আয়োজনের ছাড়পত্র পাওয়া নয়। পরিকাঠামো, ক্রীড়া আয়োজনের সক্ষমতা, আর্থিক পরিকল্পনা-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আইওসি। অর্থাৎ, ভারতের সামনে সম্ভাবনার দরজা খুললেও চূড়ান্ত স্বীকৃতি পেতে এখনও বেশ কয়েকটি ধাপ পেরোতে হবে।
এর আগে একাধিক আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে ভারত। ২০১০ সালে দিল্লিতে বসেছিল কমনওয়েলথ গেমসের আসর। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজক হিসেবেও নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরেছে দেশ। কিন্তু অলিম্পিকের মতো বিশাল আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া সম্পূর্ণ অন্য মাত্রার চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তের সেরা ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ, বিপুল সংখ্যক দর্শক, উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে আয়োজক দেশকে।
২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজন করতে পারলে তা ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রের ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে জার্মানি, হাঙ্গেরি, কাতার-সহ ছয় প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকে শেষ পর্যন্ত ভারত কতটা এগোতে পারে, এখন সেদিকেই নজর।




