নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত মাসের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করলেন তাঁর আইনজীবী। শুধু ইমরান নন, তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। সোমবার রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি দম্পতির সঙ্গে দেখা করেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর আইনজীবী সলমন সফদর। তাঁদের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার আইনি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে মাত্র ৪০ মিনিটের এই সাক্ষাৎ পর্যাপ্ত ছিল না বলেই দাবি আইনজীবীর।
৭৪ বছর বয়সি ইমরান ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে বিভিন্ন মামলায় জেলবন্দি। অন্য দিকে, তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি একটি পৃথক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলাতেই দু’জনকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ দিন ধরে তাঁদের সঙ্গে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং দলের নেতাদের সাক্ষাৎ নিয়ে টানাপড়েন চলছে।
ইসলামাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, সপ্তাহে দু’দিন—মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার—ইমরানের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্য, আইনজীবী এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দেখা করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু আদালতের একাধিক নির্দেশ সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ইমরানের সঙ্গে পরিবারের লোকজন এবং দলের নেতাদের সাক্ষাৎ কার্যত সীমিত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পিটিআইয়ের।
সলমন সফদর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইমরানের সঙ্গে সাত মাস এবং বুশরার সঙ্গে ১১ মাস পর তাঁর দেখা হল। তিনি লেখেন, ‘রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে ইমরান খান এবং বুশরা বিবির সঙ্গে দেখা হয়েছে। দু’জনের সঙ্গেই কথা বলেছি।’ প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলা ওই সাক্ষাৎ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, এত অল্প সময়ে সমস্ত মামলা এবং আইনি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা সম্ভব হয়নি।
সফদর আরও জানান, ইমরান ও বুশরা দু’জনেই তাঁদের শারীরিক অবস্থা এবং জেলের ভিতরে থাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁকে জানিয়েছেন। কয়েকটি মামলা এবং আইনি বিষয়ে নতুন নির্দেশও দিয়েছেন তাঁরা। সমাজমাধ্যমে আইনজীবী লেখেন, ‘দু’জনেই তাঁদের স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং জীবনযাপনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছেন। কয়েকটি আইনি বিষয় ও মামলা নিয়ে নতুন নির্দেশও দিয়েছেন।’
পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আক্রম জানিয়েছেন, ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার জন্য আদালতে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। সেই আবেদনগুলির পরিপ্রেক্ষিতেই এই সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ডন।
এর আগে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল ইমরানের সঙ্গে সফদরের শেষ প্রকাশ্য সাক্ষাতের খবর পাওয়া গিয়েছিল। তার আগের ১০ ফেব্রুয়ারির সাক্ষাৎও হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে। সে সময় ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।
ইমরানের স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়েও পাকিস্তানে বিতর্ক রয়েছে। জানুয়ারির শেষ দিকে তাঁর ডান চোখে সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেন অক্লুশন বা সিআরভিও নামে একটি সমস্যার কথা প্রকাশ্যে আসে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসে তাঁর চোখের চিকিৎসা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, ইমরানকে তাঁর পছন্দের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হবে।
তোশাখানা উপহার সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার মামলায় ২০২৩ সালে ইমরানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়াও ১৯ কোটি পাউন্ড দুর্নীতির অভিযোগে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইমরান ও বুশরা দু’জনেই ১৪ বছরের সাজা ভোগ করছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আরও একটি তোশাখানা মামলায় তাঁদের যথাক্রমে ১০ বছর ও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৯ মে-র হিংসার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত একাধিক মামলাতেও বিচারাধীন রয়েছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা।




