নিউজ ডেস্ক: ভগবান রাম ও শ্রীকৃষ্ণকে তুলনা করে মন্তব্য, আর সেই মন্তব্য ঘিরেই দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড়! প্রবল সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত ক্ষমা চাইতে হল বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ওরফে বাগেশ্বর বাবাকে। তাঁর দাবি, বক্তব্যের একটি ছোট অংশের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় গোটা বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তবে তাঁর মন্তব্যে যদি কোনও ভক্তের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লেগে থাকে, তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার কারেরা এলাকায়। সেখানে রামকথা পাঠের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভগবান রাম ও শ্রীকৃষ্ণের চরিত্রের তুলনা করেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী। সেই সময় ভগবান রামকে সোজাসাপটা এবং শ্রীকৃষ্ণকে বাঁকা স্বভাবের বলে মন্তব্য করেন তিনি। এমনকী শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি বাজানো নিয়েও কটাক্ষ করেন বলে অভিযোগ। তাঁর সেই বক্তব্যের ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
ভাইরাল ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, রামচন্দ্রের নাম, চেহারা এবং চলাফেরা সবই সোজা। অন্যদিকে শ্রীকৃষ্ণের নাম, চেহারা ও চলাফেরা বাঁকা। পাশাপাশি তিনি বলেন, বাঁশি বাজানো একটা খেলা হলেও ধনুক চালানো কোনও খেলা নয়। মঞ্চে একজন বাঁশিবাদককে দেখিয়ে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি বাজানো নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
https://x.com/scooplivee/status/2117194069206237454?a=gj9a8ZXOiTezc48KVb0&s=20
এই মন্তব্যের পরেই বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি ওঠে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তাঁর বক্তব্য, হিন্দু ধর্মের দুই শ্রদ্ধেয় দেবতাকে নিয়ে এমন তুলনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও আপত্তিকর। সনাতন সম্প্রদায়ের ঐক্য নষ্ট করার চেষ্টা হিসেবেও বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করেন তিনি।
বিতর্ক বাড়তেই একটি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন বাগেশ্বর বাবা। তাঁর দাবি, বক্তব্যটি ছিল একটি ভক্তিমূলক পদের ব্যাখ্যা। সম্পূর্ণ বক্তব্য না শুনে ভিডিওর কিছু অংশ দেখে তাঁকে শ্রীকৃষ্ণবিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি নিজেকে শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত বলেও দাবি করেন। তাঁর কথায়, তিনি ব্রজভূমির ভক্ত এবং শ্রীকৃষ্ণের কৃপায় ব্রজে জীবন কাটানোর প্রার্থনা করেন।
https://x.com/thchakraindia/status/2117227478062428554?a=FzUBPOysNXxIutui_0w&s=20
ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী আরও জানান, ভগবান রাম ও শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে কোনও বিভেদ তৈরি করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর কথায় বা ব্যাখ্যায় কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
তবে ক্ষমাপ্রার্থনার পরেও বিতর্ক থামেনি। ধর্মীয় বক্তব্যের সীমা, দেবদেবীদের নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য এবং ভক্তদের আবেগ, এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




