নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে বড় ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার ভোটারের মেল-ইন ব্যালট আলাদা করে রাখার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিল সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট। ওই ভোটারদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল রিপাবলিকান প্রশাসন। কিন্তু ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ব্যালট গণনা থেকে সরিয়ে রাখার আর্জিতে সাড়া দিল না দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মঙ্গলবারের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী কৌশলে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকায় প্রায় ২০ হাজার এমন ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে দাবি করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই বলেই মনে করছে বিচার বিভাগ। সেই যুক্তিতে ওই ভোটারদের পাঠানো ডাকযোগে ব্যালট আলাদা করে রাখার আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রশাসনের বক্তব্য ছিল, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পরে যাঁদের ভোট বৈধ বলে প্রমাণিত হবে, তাঁদের ব্যালট গণনা করা যেতে পারে। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী আধিকারিকদের দাবি, প্রশাসনের দেওয়া তালিকায় প্রচুর ভুল রয়েছে। এই অবস্থায় ব্যালট আলাদা করে রাখলে বহু বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার কার্যত কেড়ে নেওয়া হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য জরুরি ভিত্তিতে করা এই আবেদনে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। আদালত সিদ্ধান্তের কারণ বিস্তারিত ভাবে জানায়নি। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসেও গোটা দেশে ডাকযোগে ভোটের উপর বিধিনিষেধ আরোপের জন্য ট্রাম্পের আবেদন খারিজ করেছিল শীর্ষ আদালত। যদিও অন্য কয়েকটি জরুরি মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেও রায় দিয়েছে আদালত।
এই মামলায় নিম্ন আদালতগুলিও ক্যালিফোর্নিয়ার পক্ষেই রায় দিয়েছে। এক বিচারক সতর্ক করেছিলেন, ভোটের ঠিক আগে ব্যালট আলাদা করে রাখার নির্দেশ কার্যকর হলে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা, দু’টিই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার ওয়াশিংটনের আর এক ফেডারেল বিচারকও ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে রায় দেন। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার প্রশাসনিক পদক্ষেপকে সংবিধানবিরোধী বলে উল্লেখ করেন প্রধান বিচারক জেমস বোয়াসবার্গ। তাঁর কথায়, ‘নির্বাহী বিভাগ সম্ভবত সংবিধানের নির্বাচনী ধারার লঙ্ঘন করেছে। কারণ, নির্বাচনের নিয়ম নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র রাজ্যগুলি এবং কংগ্রেসের হাতে ন্যস্ত।’
শুনানিতে বিচার বিভাগের আইনজীবী কেনেথ কাওয়ের কাছে তালিকায় ভুল থাকার বিষয়টি জানতে চান জেলা বিচারক ট্রিনা থম্পসন। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি স্বীকার করবেন যে এই তালিকায় ভুলের হার অনেক বেশি?’ জবাবে কাও বলেন, ‘এটা মেনে নেওয়া যায়। সেই কারণেই আমরা নির্বাচনী আধিকারিকদের সাহায্য চেয়েছি, যাতে ভোটারদের বৈধতা যাচাই করা যায়।’
অন্য দিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসের বিচার বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বিল এসাইলি দাবি করেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই বলে তিনি যথেষ্ট নিশ্চিত। তাঁর কথায়, ‘এটা কোনও অনুমান নয়, কোনও তত্ত্বও নয়।’ যদিও পরে তিনিও তালিকায় ভুল থাকার সম্ভাবনা স্বীকার করেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা এই মামলায় ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর কথায়, এই আবেদন ‘হতাশার পরিচয় দিচ্ছে এবং আমাদের নির্বাচনকে দুর্বল করার পাশাপাশি আইনের শাসনকে পদদলিত করার আরও একটি চেষ্টা।’
ক্যালিফোর্নিয়ায় অক্টোবরের শুরু থেকেই ভোটগ্রহণ চলছে। রাজ্যের প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ নথিভুক্ত ভোটারের প্রত্যেকের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ ব্যালট প্রক্রিয়াকরণের কাজ শেষ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কিত ব্যালট চিহ্নিত করে আলাদা রাখা কার্যত অসম্ভব বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে এই ভোটে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট মেয়াদের শেষ দু’বছরের রাজনৈতিক সমীকরণও অনেকটা নির্ভর করছে এই ফলের উপর। তার ঠিক আগে একের পর এক আদালতে ধাক্কা খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাচনী পদক্ষেপ।




