নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই এবার ওমানের উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজে ভয়াবহ হামলা। অজ্ঞাতপরিচয় আকাশপথে আসা একটি বস্তু আঘাত হানে জাহাজটিতে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক ভারতীয় নাবিকের। তবে জাহাজে থাকা বাকি ১৩ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মঙ্গলবার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। একইসঙ্গে পশ্চিম এশিয়ায় বাণিজ্যিক জাহাজের উপর হামলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
জানা গিয়েছে, সোমবার ওমানের উপকূলের কাছে চলাচলের সময় ভারতীয় পতাকাবাহী 'এমএসভি আল জুসুফি' জাহাজটিতে আঘাত হানে একটি অজ্ঞাতপরিচয় আকাশপথে আসা বস্তু। জাহাজটিতে মোট ১৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। হামলার পর ওমানের উপকূলরক্ষী বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ১৩ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হলেও গুরুতর আহত এক নাবিক শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান। মৃতের নাম গন্ধার নাহিম আজিজ। তিনি গুজরাটের বাসিন্দা।
কেন্দ্রীয় জাহাজ পরিবহণমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এই ঘটনার কথা জানিয়ে বলেন, উদ্ধার হওয়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমানের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস। পাশাপাশি জীবিত নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং মৃত নাবিকের দেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
এই মৃত্যুর ফলে পশ্চিম এশিয়ার চলতি সংঘাতের জেরে প্রাণ হারানো ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩ হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অবিলম্বে সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। আন্তর্জাতিক জলপথে অবাধ ও নিরাপদ বাণিজ্যিক চলাচল নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে ভারত।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর হরমুজ প্রণালীতে ২৭ জন ভারতীয় নাবিক থাকা একটি তেলবাহী জাহাজে লিমপেট মাইনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। তার আগে ১১ অক্টোবরও ভারতীয় নাবিক থাকা দুটি জাহাজ হামলার মুখে পড়ে। সব মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবার ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজ এবং নাবিকদের নিরাপত্তার উপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।




