নয়াদিল্লি: মেয়ের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে কেন্দ্রীয় সরকারের সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় (Sukanya Samriddhi Yojana) টাকা জমাচ্ছেন বহু অভিভাবক। উচ্চশিক্ষা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের আর্থিক প্রয়োজন—সব কিছু মাথায় রেখেই এই প্রকল্পে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় করেন তাঁরা। কিন্তু এই অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে যে বছরে ন্যূনতম ২৫০ টাকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, তা অনেকেরই অজানা। কোনও অর্থবর্ষে এই সামান্য টাকাটুকুও জমা দিতে ভুলে গেলে কী হবে? অ্যাকাউন্ট কি বন্ধ হয়ে যাবে? এত দিন ধরে জমানো টাকার উপর কি সুদ পাওয়া বন্ধ হবে? নাকি জরিমানা দিয়ে ফের অ্যাকাউন্ট সচল করা সম্ভব?
সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্টের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি অর্থবর্ষে অন্তত ২৫০ টাকা জমা দিতে হয়। অর্থবর্ষ চলে ১ এপ্রিল থেকে পরের বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম টাকা জমা না পড়লে অ্যাকাউন্টটি 'ডিফল্ট' বা অনিয়মিত হিসেবে চিহ্নিত হয়। তবে তার অর্থ এই নয় যে অ্যাকাউন্টে আগে থেকে জমা থাকা টাকা হারিয়ে যাবে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বকেয়া টাকা ও জরিমানা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফের নিয়মিত করা যায়।
কত টাকা জরিমানা দিতে হবে?
প্রতি যে অর্থবর্ষে ন্যূনতম ২৫০ টাকা জমা পড়েনি, সেই বছরের জন্য ৫০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। পাশাপাশি ওই বছরের বকেয়া ২৫০ টাকাও জমা করতে হবে। অর্থাৎ, এক বছরের টাকা জমা দিতে ভুলে গেলে অ্যাকাউন্ট নিয়মিত করতে মোট ৩০০ টাকা দিতে হবে। ধরা যাক, কোনও অভিভাবক পরপর তিন অর্থবর্ষে সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম টাকা জমা দিতে পারেননি। সে ক্ষেত্রে তিন বছরের বকেয়া জমা হবে ৭৫০ টাকা। এর সঙ্গে তিন বছরের জন্য ৫০ টাকা করে জরিমানা, অর্থাৎ আরও ১৫০ টাকা দিতে হবে। সব মিলিয়ে অ্যাকাউন্ট নিয়মিত করতে খরচ হবে ৯০০ টাকা।
কত দিন পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট নিয়মিত করার সুযোগ? প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে ১৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে পর্যন্ত ডিফল্ট অ্যাকাউন্ট নিয়মিত করার সুযোগ রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রতি অনিয়মিত অর্থবর্ষের জন্য ২৫০ টাকা করে বকেয়া জমা এবং ৫০ টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। তবে ১৫ বছরের সময়সীমা পেরিয়ে গেলে নতুন করে বকেয়া জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট নিয়মিত করার সুযোগ থাকে না।
জমা টাকার উপর কি সুদ পাওয়া যাবে?
এখানেই রয়েছে স্বস্তির খবর। কোনও অর্থবর্ষে ন্যূনতম টাকা জমা না পড়লেও অ্যাকাউন্টে আগে থেকে সঞ্চিত অর্থ নষ্ট হয়ে যায় না। এমনকি ডিফল্ট অ্যাকাউন্ট নিয়মিত করা না হলেও তাতে জমা থাকা অর্থের উপর প্রকল্পের নির্ধারিত সুদের হার অনুযায়ী সুদ জমতে থাকে। অর্থাৎ, সামান্য টাকা জমা দিতে ভুলে যাওয়ার কারণে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য এত দিন ধরে গড়ে তোলা সঞ্চয় হারানোর আশঙ্কা নেই।
কত টাকা জমা দেওয়া যায় সুকন্যা সমৃদ্ধি প্রকল্পে?
এই প্রকল্পে একটি অর্থবর্ষে সর্বনিম্ন ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়া যায়। একাধিক কিস্তিতে কিংবা এককালীন টাকা জমা রাখার সুযোগ রয়েছে। অ্যাকাউন্ট খোলার তারিখ থেকে প্রথম ১৫ বছর পর্যন্ত টাকা জমা দেওয়া যায়। তবে অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ২১ বছর। অর্থাৎ, ১৫ বছর পর নতুন করে টাকা জমা দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও বাকি সময় সঞ্চিত অর্থের উপর সুদ জমতে থাকে।
বর্তমানে সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনায় বার্ষিক সুদের হার ৮.২ শতাংশ। তবে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি ত্রৈমাসিকে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার পর্যালোচনা করে। ফলে ভবিষ্যতে এই হার পরিবর্তিত হতে পারে। সব মিলিয়ে, বছরে মাত্র ২৫০ টাকা জমা দিতে ভুল হলে সুকন্যা সমৃদ্ধি অ্যাকাউন্ট ডিফল্ট হতে পারে ঠিকই, কিন্তু তাতে এত দিনের সঞ্চয় হারিয়ে যায় না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া টাকা ও জরিমানা জমা দিয়ে অ্যাকাউন্ট ফের নিয়মিত করার সুযোগ রয়েছে। তাই অপ্রয়োজনীয় জরিমানা ও ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়াতে প্রতি অর্থবর্ষের ৩১ মার্চের আগেই অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম জমা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




