নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ এ বার সরাসরি পড়ল বিমানযাত্রায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তেই দেশে ফের বাড়ল বিমানের জ্বালানি এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর দাম। সূত্রের খবর, ১ সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ৬.২৮ টাকা অর্থাৎ ৫.৪৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে প্রতি লিটার এটিএফের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২১.২৮ টাকা। এর আগে অগাস্টের শুরুতেও লিটার প্রতি প্রায় ৫ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল। অর্থাৎ পর পর দু’মাস জ্বালানির খরচ বাড়ল দেশের বিমান সংস্থাগুলির।
উল্লেখ্য, বিমান সংস্থাগুলির মোট পরিচালন ব্যয়ের বড় অংশই জ্বালানির পিছনে যায়। ভারতে সাধারণত এটিএফের খরচ একটি বিমান সংস্থার পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই সংস্থাগুলির খরচের বোঝা বাড়ে। সেই চাপ শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের উপর পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এখনই যে বিমানের টিকিটের দাম বাড়বেই, এমনটা নয়। যাত্রী চাহিদা, প্রতিযোগিতা, আসনসংখ্যা এবং কোন রুটে কতটা চাপ রয়েছে—এ সব কিছুর উপর নির্ভর করে বিমানভাড়া ঠিক হয়। ফলে এটিএফের দাম বাড়লেও ভাড়ার ক্ষেত্রে তার প্রভাব কতটা পড়বে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ দিকে, এটিএফের দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহণ হয়। ফলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতেই তেলের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। সোমবারের লেনদেনে মার্কিন বেঞ্চমার্ক WTI ক্রুডের দাম ২.৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল-পিছু ৮৬ ডলারের উপরে উঠে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডও ঘোরাফেরা করছে ৯০ ডলারের কাছাকাছি।
তবে বিমান সংস্থাগুলির জন্য কিছুটা স্বস্তির জায়গাও রয়েছে। চলতি বছর কেন্দ্র একটি মূল্য-স্থিতিশীলকরণ ব্যবস্থা চালু করেছে। যেখানে স্বেচ্ছায় যোগ দেওয়া বিমান সংস্থাগুলি সর্বোচ্চ ৩ বছরের জন্য এটিএফের দাম নির্দিষ্ট করে রাখতে পারে। সেই ব্যবস্থায় নির্ধারিত দাম বর্তমানে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা। যা আগের ১০৪.৯২৭ টাকা থেকে বেশি। ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা থেকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুরক্ষা পাবে। অন্য দিকে, এই ব্যবস্থার বাইরে থাকা সংস্থাগুলিকে বাজারদরেই জ্বালানি কিনতে হবে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়লে বিমানভাড়ায় তার আঁচ পড়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।