মালদা, নিউজ ডেস্ক: সকালটা অন্যদিনের মতোই শুরু হয়েছিল। বাজারে ভিড় জমেছিল ক্রেতাদের। কারুর হাতে ছিল মাছের ব্যাগ, কেউ আবার সবজির দরদাম নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু হঠাৎ করেই পরিচিত বাজারের চেনা ছবির কিছুটা বদল দেখা গেল। বাজারের চেনা ব্যস্ততার মধ্যে দেখা গেল প্রশাসনের আধিকারিকদের আনাগোনা। প্রশাসনের দিক থেকে পুরো বাজার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্রেতারাও কৌতুহলী হয়ে বোঝার চেষ্টা করছে ঘটনাটি।
নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া নজরদারি শুরু করেছে মালদা জেলা প্রশাসন। সূত্রে খবর, কালোবাজারি এবং ফড়িয়াদের দৌরাত্ম রুখতে সরাসরি বাজারে নেমে পরিস্থিতি সবদিক থেকে খতিয়ে দেখলেন মালদার জেলাশাসক রাজনবীর কাপুর।
মালদার ইংলিশবাজারের রথবাড়ি এবং নেতাজি পুরবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সবজি ও মাছের বাজারে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। শুধুমাত্র বাজারে দোকানগুলি পরিদর্শন করেই থেমে থাকেননি জেলাশাসক। দোকানে মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়েছে কি না, সেটিও বিশেষভাবে পরীক্ষা করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেওয়া হয় নির্ধারিত দামের বাইরে গিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি, কোনও পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন, পরিদর্শনের সময় ক্রেতাদের সঙ্গেও কথা বলেন জেলাশাসক। বাজারে পণ্যের দাম নিয়ে তাঁদের কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে জানার চেষ্টা করেন তিনি। প্রশাসনের এই আকস্মিক বাজার পরিদর্শনে ক্রেতাদের মধ্যে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শুধুমাত্র নির্দেশিকা জারি করলেই হবে না, বাজারে নিয়মিত প্রশাসনের নজরদারি দরকার।
ক্রেতাদের মতে, প্রশাসনিক আধিকারিকেরা যদি এভাবে সরাসরি বাজার পরিদর্শন করেন তাহলে অসাধু ব্যবসায়িকের মধ্যে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হবে। এবং তাঁরা ন্যায্য দামে তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাবে। মালদা জেলার এই পদক্ষেপে তাই আপাতত কড়াবার্তা গিয়েছে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তবে, কালোবাজারি ও ফড়িয়াচক্রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি আগামী দিনে কতটা কাজে দেবে, সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।