পশ্চিম মেদিনীপুর, নিউজ ডেস্ক: রবিবার রাত। বাইরে তখন শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। চারপাশে অন্ধকার। কে জানত অন্ধকারের এই বৃষ্টির রাতেই শেষ হয়ে যাবে একটি গোটা পরিবার। সেদিন ওই পরিবারের চার সদস্য নিজেদের ঘরের মধ্যে ছিলেন আর পাঁচটা রাতের মতই। কোনও বিপদের আগামবার্তা ছিল না। ঘরের মধ্যে ছিল শুধু নিরবতা। কিন্তু সেই নীরবতা ভেঙ্গে হঠাৎ বিকট শব্দ। কয়েক মুহূর্তেই ছুটে এলেন প্রতিবেশীরা। তাঁদের চোখের সামনে তখন এমন দৃশ্য, যা দেখে কার্যত শিউরে উঠলেন সকলে। এরপর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানার জাহালদা এলাকার। সূত্রে খবর, রবিবার রাতে একটানা প্রবল বৃষ্টির কারণে আচমকা একটি মাটির বাড়ি ভেঙে পড়ে। সেই সময় বাড়িটির ভিতরে ছিলেন একই পরিবারের চারজন সদস্য। হঠাৎ করে বাড়িটি ভেঙ্গে পড়তেই কার্যত তাঁরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। বাড়িটি ভেঙ্গে পড়ার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও।
এরপর স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের তৎপরতায় শুরু করা হয় উদ্ধারকাজ। কিছুক্ষণ উদ্ধারকার্য চলার পর ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁদের চারজনকে উদ্ধার করা হয়। এবং তাঁদের দ্রুত এগরা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে সেখানে দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত দুজনের নাম নিরঞ্জন প্রধান ও দুর্গা প্রধান। নিরঞ্জন এর বয়স ৭৬ বছর এবং দুর্গার বয়স ৪৮ বছর। সম্পর্কে তাঁরা বাবা ও মেয়ে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় পরিবারের আরও দুজন সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁরা সম্পর্কে মা ও ছেলে। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে মাটির বাড়িতেই বসবাস করতেন। এও জানা গিয়েছে, মৃত নিরঞ্জন প্রধান ভেবেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে মাথার ওপর এক উপযুক্ত ছাদের ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু তাঁর সেই আশা আর পূরণ হল না। তার আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক পরিণতি। একই পরিবারের বাবা ও মেয়ের মৃত্যুতে ভেঙ্গে পড়েছেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। এলাকায় বর্ষার সময়ে মাটির বাড়িতে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আপাতত এই ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে প্রশাসনের দিক থেকে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনে সাধারণ মানুষ যে কতটা অসহায়, এই ঘটনায় যেন তার নির্মম উদাহরণ। এক রাতের ব্যবধানে হারিয়ে গেল পরিবারের মুখের হাসি।