কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: কাস্টিং কাউচ ও হেনস্তার বিরুদ্ধে আইনি পথেই লড়াই, টলিপাড়ার অন্দরের রাজনীতি ফাঁস করে বিস্ফোরক ঋতাভরী। ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক দিয়ে আত্মপ্রকাশের পর ‘ব্রহ্মা জানেন গোপন কম্মটি’, ‘ফাটাফাটি’, ‘বহুরূপী’র মতো একাধিক সফল ছবি এবং হিন্দি বিনোদন দুনিয়ায় কাজ করে নিজেকে অন্যতম প্রভাবশালী মুখ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ঋতাভরী।
এবার টলিউডের অন্দরে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারী সুরক্ষার অভাব নিয়ে ফের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিনেত্রী ঋতাভরী চক্রবর্তী। কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এবার আর চুপ থাকার কোনও জায়গা নেই। কেরিয়ারের একেবারে প্রাথমিক পর্বে কেন সরাসরি কারও বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি, সেই প্রসঙ্গে ঋতাভরী জানান যে তখন সদ্য পথচলা শুরু করা এক তরুণীর মনে স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক ভয় কাজ করত।
অভিযোগ তুললে উল্টে তাঁকেই কাঠগড়ায় তোলা হতে পারে কিংবা কাজ পাওয়ার ব্যর্থতা ঢাকতে বদনাম করা হচ্ছে বলে দাগিয়ে দেওয়া হতে পারে এই আশঙ্কাই অনেককে চুপ করিয়ে রাখে। তবে সময় এখন অনেকটাই বদলেছে। অভিনেত্রী বলেন, অতীতের সেই সব আপত্তিকর বার্তা ও তথ্যপ্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সস্তা সমাজমাধ্যমের ট্রায়াল এড়িয়ে তিনি বিষয়টিকে আইনি পথেই মোকাবিলার পক্ষপাতী।
দক্ষিণ ভারতের হেমা কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টলিউডে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরব হয়েছিলেন ঋতাভরী। নারী সুরক্ষা এবং নিরপেক্ষ কর্মপরিবেশের স্বার্থে বিচারক, পুলিশ আধিকারিক, আইনজীবী ও মনস্তত্ত্ববিদদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি এবং নির্দিষ্ট নীতি তৈরির দাবি তুলে প্রশাসনের শীর্ষ মহলের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই সংস্কারের রূপরেখা দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে সম্প্রতি আরও একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও জমা দিয়েছেন তিনি।