স্পোর্টস ডেস্ক: লিও মেসির বিদায়ে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল ফুটবল ও ক্রিকেট। সোমবারই দেশের নীল-সাদা জার্সিকে পাকাপাকিভাবে তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সেই খবর সামনে আসতেই শুধু ফুটবল দুনিয়া নয়, আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছে গোটা ক্রীড়া মহল। সেই তালিকায় এ বার জুড়ল ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার শিখর ধাওয়ানের নামও। সমাজ মাধ্যমে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ধাওয়ান লিখেছেন, ‘‘১০ নম্বরকে ছাড়া আর্জেন্টিনার জার্সিটা আর আগের মতো লাগবে না।’’ মেসির ১৯ বছরের কেরিয়ারের চাপ, লড়াই, হতাশা এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের 'গব্বর'।
বর্তমানে ৪০ ছুঁইছুঁই মেসির কেরিয়ারে একদিকে যেমন এসেছে একের পর এক ব্যক্তিগত সাফল্য, তেমনই ছিল দীর্ঘ অপেক্ষা এবং হতাশার একটি অধ্যায়ও। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে স্বপ্নভঙ্গের পর যথাক্রমে ২০১৫ এবং ১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হার। বড় মঞ্চে বার বার এভাবেই ধাক্কা খেতে হয়েছে এল এম টেনকে। এমনকি ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন মেসি। তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত বদলে আবার মাঠে ফেরেন দেশের জার্সিতে। শেষ পর্যন্ত ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে আর্জেন্টিনার দীর্ঘ ২৮ বছরের ট্রফি-খরা দূর করেন তিনি।
এর পরই আসে লিওর কেরিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা। ১২০ মিনিট ধরে ম্যাচ ৩-৩ অবস্থায় অমীমাংসিত থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় মেসির দল। ফাইনালে জোড়া গোল করার পাশাপাশি টাইব্রেকারে বল জালে জড়িয়েছিলেন আলবিসেলেস্তেদের অধিনায়ক। এর পর ২০২৪ সালে ফের কোপা আমেরিকা জয়। অন্যদিকে জাতীয় দলের হয়ে মেসির ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানও যথেষ্ট ঈর্ষণীয়। ২০৩ ম্যাচে ১২৪ গোল করে আর্জেন্টিনার ইতিহাস সর্বাধিক ম্যাচ এবং গোলের মালিক তিনি।
মেসির অবসরের ঘোষণা পর আবেগতাড়িত ভারতের আরেক প্রাক্তন ক্রিকেটার যুবরাজ সিং-ও। ইনস্টাগ্রামে মেসিকে কিংবদন্তি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইতিহাস লেখার সময়ই কিংবদন্তি হয়ে ওঠেন এমন খেলোয়াড়ের সংখ্যা হাতে গোনা। এ দিকে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবল থেকে এখনই সরে যাচ্ছেন না বলে খবর। মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। ৬টি বিশ্বকাপ খেলা মেসির বিশ্বকাপ-পরিসংখ্যানও অনন্য। ৩৪ ম্যাচে ২১ গোল। তবে তাঁর বিদায়ের পর আর্জেন্টিনার জার্সিতে ‘১০ নম্বর’ যে এক নতুন শূন্যতা তৈরি করবে, ধাওয়ানের কথাতেই যেন তার ইঙ্গিত মিলল।