কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: অনেক হয়েছে। আর না! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে অবশেষে বিদায় জানিয়েই দিলেন লিওনেল মেসি। সোমবার নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। ১৯ বছরের বর্ণময় আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে আর্জেন্টিনার জার্সিতে একাধিক নজির গড়েছেন তিনি। দেশের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড তাঁর দখলে। এখনও পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন তিনি। গোলের ক্ষেত্রেও দেশের ইতিহাসে সর্বকালের সেরা মেসিই। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। তাঁর বিদায়ের ঘোষণায় বিশ্ব ফুটবলে কার্যত অবসান ঘটল একটি যুগের।
আর্জেন্টিনার হয়ে মোট ৩টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছেন মেসি। ব্রাজিলে ২০১৪ সালের ফাইনালে এবং সদ্যসমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালেও হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও ৪ বছর আগে ফ্রান্সকে হারিয়ে দেশকে বহুল প্রতীক্ষিত সাফল্যটি এনে দিয়েছিলেন এল এম টেন। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্বেই ৩৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এ ছাড়া ২০২১ এবং ২০২৪ সালে নীল-সাদা ব্রিগেডকে কোপা আমেরিকার শিরোপাও এনে দিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে জেতান ফিনালিসিমা।
তবে লিওর এই অবসরের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে সম্প্রতি তাঁর বাবার মৃত্যুরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত ৮ অগাস্ট প্রয়াত হয়েছেন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। বাবার প্রয়াণে গভীরভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ছেলে। একটি আবেগঘন বার্তায় বাবাকে স্মরণও করেছিলেন তিনি। এর পরেই ফুটবলে আর কত দিন খেলবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনা তথা ইন্টার মায়ামির এই তারকা। জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবল নিয়েও তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল।
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে মেসি জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত তাঁকে কষ্ট দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি এটাও বুঝতে পারছেন যে, “সময় এসে গিয়েছে।” আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর শেষ অধ্যায় যে কতটা আবেগঘন, তা এই কথাতেই স্পষ্ট। জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি একাধিক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন তিনি। ২০৭ ম্যাচ ও ১২৫ গোলের রেকর্ড নিয়ে বিদায় নেওয়া মেসি শুধু আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসেই নয়, বিশ্ব ফুটবলেও রেখে গেলেন এক অনন্য কীর্তি। এখন প্রশ্ন একটাই। আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে কেমন হবে মেসির পরবর্তী অধ্যায়?