স্পোর্টস ডেস্ক: অবসান ঘটল একটি যুগের। আন্তর্জাতিক ফুটবলকে অবশেষে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। সোমবার আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সি আর না পরার সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্বকাপজয়ী তারকা। তবে মেসির এই সিদ্ধান্ত নতুন নয়। ১০ বছর আগে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে আর্জেন্টিনার হারের পরও আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়েও মেসির অবসরের খবরে আবেগে ভেসেছিল গোটা ফুটবল বিশ্ব। এমনকি তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও দাঁড়িয়েছিলেন এল এম টেন। বলেছিলেন, সেই কঠিন সিদ্ধান্তের পিছনে থাকা আবেগটা সকলের বোঝা উচিত।
২০১৬ সালের কোপা ফাইনালে চিলির বিরুদ্ধে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন লিও। পর পর ফাইনালে ব্যর্থতার যন্ত্রণা তখন তাঁকে এমনভাবে গ্রাস করেছিল যে মাত্র ২৯ বছর বয়সেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময় সিআর সেভেন বলেছিলেন, ‘‘মেসি একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মানুষের সেটা বোঝা উচিত।’’ পর্তুগিজ মহাতারকার যুক্তি ছিল, একটি পেনাল্টি মিস করলেই কোনও ফুটবলার খারাপ হয়ে যান না। বরং বারবার হার ও হতাশার সঙ্গে অভ্যস্ত নন মেসি। তাঁর সিদ্ধান্তের আবেগটা সেখানেই।
মেসির চোখের জলও নাকি নাড়িয়ে দিয়েছিল রোনাল্ডোকে। সেই সময় তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, লিও আবার দেশের জার্সিতে মাঠে ফিরবেন। বলেছিলেন, মেসিকে কাঁদতে দেখাটা কষ্টের এবং তিনি চান আর্জেন্টিনার তারকা ফের জাতীয় দলের হয়ে খেলুন। শেষ পর্যন্ত রোনাল্ডোর সেই আশা পূরণ হয়। অবসর ঘোষণার কয়েক মাস পরেই ফের আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখা যায় মেসিকে। আর তার পরের গল্পটা রূপকথার মতো। ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা জয়ের পাশাপাশি ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন করেন আলবিসেলেস্তেদের।
তবে এ বার পরিস্থিতি একেবারেই অন্য রকম। মার্কিন মুলুকে সদ্যসমাপ্ত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পরই জল্পনা শুরু হয়েছিল মেসির আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সোমবার সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে জাতীয় দল থেকে ফের সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন তিনি। ১০ বছর আগের মতো এ বারও কি সিদ্ধান্ত বদলাবেন মেসি? সেই সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রোনাল্ডোর নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও এখনও স্পষ্ট কোনও ঘোষণা নেই। ফলে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের শেষ বাঁকটিও এখন ফুটবলবিশ্বের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়।