উত্তরপ্রদেশ, নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বিস্ফোরণ! কেঁপে উঠলো স্থানীয় অঞ্চল। এই ঘটনা সোমবারের। উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের কৌশম্বী জেলা। এই জেলার অন্তর্গত পিপড়ি থানা এবং এই থানার অন্তর্গত মনোরি গ্রাম। সোমবার দুপুরে এই গ্রামেই ঘটেছে বিস্ফোরণ জানা গিয়েছে একটি বাজি কারখানায় বিস্ফোরণটি ঘটেছিল। এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছে ৫ জন এবং নিহত এখনো পর্যন্ত ১১ জন। তবে অন্য হিসেব বলছে এখনো পর্যন্ত ১৮ জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে।
বিস্ফোরণে কারখানাটি সম্পূর্ণভাবে ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে। এছাড়াও, আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কারখানার পাশে অন্তত পাঁচ থেকে ছ'টি বাড়ি ধসে গেছে। এই ঘটনায় পুলিশ, দমকল,জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ) এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকাজে বিমানবাহিনীর ৫০ জনের বেশি সদস্যও অংশ নিচ্ছেন।
ঘটনাস্থলে মোতায়েন ১২টিরও বেশি দমকল ইঞ্জিন। এছাড়াও প্রায় ২৪টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর জন্য প্রায় ১০টি বুলডোজার ও ক্রেন ব্যবহার হচ্ছে। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সন্ধান চলছে। ধ্বংসস্তূপে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিস্ফোরণের প্রভাবে একটি উচ্চক্ষমতার বিদ্যুতের খুঁটি ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ক্ষতি মেরামত করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। এই বিস্ফোরণের প্রভাবে দিল্লি-হাওড়া রেলপথ এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।
এই ঘটনায় আহত একটি বাচ্চা জানায় 'দুটি ছোট ভাই এবং বাবা-মা ওই বিস্ফোরণে মারা গিয়েছেন।' সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন - 'বাকিরা ওখানে কি আটকে আছেন?' তখন মেয়েটি বলে সে জানে না। এরপরে সাংবাদিকরা আবার তাকে প্রশ্ন করে- সবাই ওখান থেকে পালিয়ে গিয়েছে? সেই ব্যাপারেও বাচ্চা মেয়েটি বলে সে দেখেনি। তার বাড়ি কোথায়, এই প্রশ্ন শুনে মেয়েটি বলে-তার বাড়ী এখানেই।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় কার্যকর্তারা বলেছেন 'নিহতরা সবাই কারখানার আশেপাশের বাসিন্দা। এই ঘটনায় কম বেশি ১৮ জনের মত মানুষ আহত হয়ে থাকতে পারেন।' এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় জেলাশাসক অজয় পাল বলেছেন 'বিস্ফোরণের পর ১১ জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যু হয় পাঁচজনের আরো পাঁচজন চিকিৎসাধীন।'