নিউজ ডেস্ক: উত্তরাখণ্ডের হলদওয়ানিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মঞ্চে শুদ্ধিকরণের ঘটনায় এফআইআর চেয়ে নিজেই অভিযুক্ত হয়েছেন রাহুল গান্ধী। লোকসভার বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধেই দায়ের করা হয়েছে এফআইআর। সেই ঘটনায় এ বার আরও তীব্র হল রাজনৈতিক সংঘাত। রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়ার প্রতিবাদে সোমবার কর্নাটক, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, গোয়া এবং শ্রীনগরের রাস্তায় বিক্ষোভ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করতেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে বিজেপি।
ঘটনার সূত্রপাত হলদওয়ানির রামলীলা ময়দানে খাড়গের সভাকে ঘিরে। দলিত সম্প্রদায়ের নেতা খাড়গে সেখানে বক্তব্য রাখার পর মঞ্চ ও সভাস্থলে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করা হয় বলে অভিযোগ। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উচিত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া। তার পরেই হলদওয়ানির শ্রী রাম সেনা ধর্মার্থ সেবা সমিতির সদস্য অমিত কুমার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন রাহুলের নামেই। ধর্ম ও জাতের ভিত্তিতে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা রুজু হয় তাঁর বিরুদ্ধে।
এই এফআইআরকে হাতিয়ার করেই সোমবার দেশজুড়ে প্রতিবাদে নামে কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল রাজ্য ও জেলা নেতৃত্বকে বড় মিছিল করার নির্দেশ দেন। তাঁর অভিযোগ, সামাজিক ন্যায় ও সংবিধানের মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলার জন্যই নিশানা করা হচ্ছে রাহুলকে। বিজেপি নাকি ‘জাতিবিদ্বেষী আচরণকে প্রকাশ্যে সমর্থন’ করছে এবং বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রে'র নির্লজ্জ অপব্যবহার করা হচ্ছে, এমনই অভিযোগ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি, ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানায় কংগ্রেস।
সেই প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়ে ভূস্বর্গেও। রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআরের প্রতিবাদে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের রাজপথে নেমে বিক্ষোভ দেখায় কংগ্রেস। এ দিকে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের রণদীপ সুরজেওয়ালা এবং জয়রাম রমেশও। সুরজেওয়ালার অভিযোগ, রাহুলের বিরুদ্ধে এফআইআর করে বিজেপি সরকার তাদের ‘আসল চেহারা’ প্রকাশ করেছে। খাড়গের বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিংহ ধামীকেও সমালোচনায় বিদ্ধ করেছেন। রমেশের দাবি, দলিতদের ‘অবিচার, অপমান ও বৈষম্য’-এর বিষয়টি রাহুল সামনে এনেছিলেন। অথচ শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধেই ২৪ ঘন্টার মধ্যে এফআইআর করা হয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি-কংগ্রেসের রাজনৈতিক তরজা আরও চড়ল।