ভারতের পরিষেবা খাতে বৃদ্ধির গতি জুলাইয়ে অনেকটাই কমে গেল। নতুন ব্যবসা আসার হার কমে যাওয়ায় HSBC India Services PMI জুনের ৫৭.৪ থেকে নেমে জুলাইয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩.৩-এ। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটিই পরিষেবা খাতে বৃদ্ধির সবচেয়ে দুর্বল গতি।
শুধু পরিষেবা নয়, দেশের বেসরকারি অর্থনীতির সামগ্রিক ছবিতেও কিছুটা মন্থরতার ইঙ্গিত মিলেছে। পরিষেবা ও উৎপাদন দুই খাতকে মিলিয়ে তৈরি Composite PMI জুনের ৫৭.১ থেকে কমে জুলাইয়ে হয়েছে ৫৪.৩। ২০২২ সালের মার্চের পর এই সূচকও সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, জুলাইয়ে নতুন ব্যবসা বৃদ্ধির হার প্রায় সাড়ে চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও পরিষেবা খাতে অর্ডার আসার গতি জুনের তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে রপ্তানি অর্ডারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল।
চাকরির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির ছবি রয়েছে। পরিষেবা সংস্থাগুলিতে টানা সপ্তম মাসে কর্মী নিয়োগ বেড়েছে। জুনে ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে ধীরগতিতে নিয়োগ হয়েছিল। জুলাইয়ে সেই গতি কিছুটা বাড়লেও তা এখনও খুব বেশি নয়। অধিকাংশ সংস্থাই কর্মীসংখ্যায় কোনও পরিবর্তন করেনি। অল্প কিছু সংস্থাই নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে।
মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও দেখা গিয়েছে মিশ্র প্রবণতা। সংস্থাগুলির কাঁচামাল ও অন্যান্য ইনপুট খরচের চাপ টানা চতুর্থ মাসে কমেছে। জানুয়ারির পর জুলাইয়েই এই চাপ ছিল সবচেয়ে কম। কিন্তু খরচের চাপের একটি অংশ গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দেওয়ায় পরিষেবার বিক্রয়মূল্য বৃদ্ধির হার তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে।
এর পাশাপাশি ব্যবসায়িক আস্থাতেও কিছুটা ভাটা পড়েছে। ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে সংস্থাগুলির আত্মবিশ্বাস টানা চতুর্থ মাসে কমেছে এবং সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। তবুও শক্তিশালী চাহিদা ফেরার সম্ভাবনা এবং পর্যটন শিল্পের উন্নতির আশা দেখছেন ব্যবসায়ীরা।
জুলাইয়ের PMI রিপোর্ট ভারতের অর্থনীতিতে বড় কোনও সংকটের ইঙ্গিত না দিলেও পরিষেবা খাতে বৃদ্ধির গতি যে বেশ কিছুটা কমেছে, তা স্পষ্ট। আগামী মাসগুলিতে নতুন ব্যবসা, চাহিদা এবং সংস্থাগুলির আস্থা কতটা ঘুরে দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই নজর অর্থনীতিবিদদের।