স্পোর্টস ডেস্ক: নাগোয়ায় এশিয়ান গেমস শুরু হওয়ার আগেই একের পর এক ভয়াবহ অব্যবস্থার শিকার ভারতীয় শ্যুটিং দল। অভিযোগ, জাপানের হোটেলে ৩৫ জনের ভারতীয় দলের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল মাত্র ৭টি ঘর। এ ছাড়া বাকি সদস্যদের অন্য একটি হোটেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এতেই শেষ নয়। শ্যুটার রাহি সরনোবতের জন্য বুক করা ঘরও ‘ডোপ কন্ট্রোল’-এর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানানো হয় পরে। এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (আইওএ) কাছে থাকা বুকিং তালিকায় ওই ঘরটি ভারতীয় দলের জন্যই বরাদ্দ ছিল।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে জাপানে পৌঁছয় ভারতীয় শুটিং দল। বিমানবন্দরে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সেরে দ্রুত অ্যাক্রেডিটেশন কেন্দ্রেও পৌঁছে যান খেলোয়াড়েরা। মাত্র ১৫ মিনিটেই তাঁদের পরিচয়পত্র যাচাই হয়ে যায়। কিন্তু তার পরেই শুরু বিপত্তি। রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে ভোর ৩টে পর্যন্ত অ্যাক্রেডিটেশন কেন্দ্রেই পরিবহণের অপেক্ষায় থাকতে হয় তাঁদের। শেষ পর্যন্ত রাত ৩টেয় আসে বাস। সাড়ে ৩টে নাগাদ হোটেলে পৌঁছনোর পর অপেক্ষা করছিল আরও বড় ধাক্কা। হোটেলে পৌঁছে দেখা যায় ৩৫ জনের জন্য নির্ধারিত হোটেলে ঘর রয়েছে মাত্র ৭টি। পরে আইওএর হস্তক্ষেপে কাছাকাছি দু’টি হোটেলে আরও মোট ১৮টি ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।
পরিস্থিতি সামলাতে ভোররাতে নিজেদের লাগেজ নিজেদেরই টেনে নিয়ে যেতে হয় শ্যুটারদের। সঙ্গে ছিল ভারী শুটিং সরঞ্জাম এবং অনুষ্ঠানের পোশাক। এই সময় মহিলা সতীর্থদের সাহায্য করতে পুরুষ শুটারদেরও একাধিকবার দুই হোটেলের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়। সব মিলিয়ে নাগোয়ায় পৌঁছনোর ৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পরে, আন্দাজ ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে সম্পন্ন হয় দলের চেক-ইন। এর পরেও অবশ্য সমস্যা মেটেনি। পরে আসা ৫ সদস্যের মধ্যে রাহির জন্য বুক করা ঘরটি ডোপ কন্ট্রোলের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানানো হয়। অন্য দিকে, ভুল হোটেলে পৌঁছেও রাহি সেখানে ঘরের চাবি পেয়ে যান!
সমস্যা ছিল পরিবহণেও। ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় শ্যুটিং রেঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা ছিল দলের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আসে মাত্র একটি বাস। ফলে একাধিক খেলোয়াড় এবং কোচকে প্রায় অপেক্ষা করতে হয় সাড়ে ৩ ঘণ্টা। শেষ পর্যন্ত সকাল সাড়ে ১০টায় বাসে উঠতে পারেন তাঁরা এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় পৌঁছন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। এশিয়ান গেমসের মতো বড় মঞ্চে নামার আগে পর পর এ হেন অব্যবস্থায় ভারতীয় শুটিং দলের প্রস্তুতি কতটা ধাক্কা খেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।