নাগোয়া: ২০২৬ এশিয়ান গেমস শুরুর আগেই ভারতীয় দলের সামনে একের পর এক লজিস্টিক সমস্যা। জাপানের নাগোয়ায় পৌঁছে অ্যাথলিটদের থাকার ব্যবস্থা, যাতায়াত এবং অ্যাক্রেডিটেশন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার তিন স্তরের ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা চালু করেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক। এমনকি প্রয়োজন হলে প্রায় ২,০০০ প্রবাসী ভারতীয় তাঁদের নিজেদের বাড়িতে ভারতীয় অ্যাথলিটদের থাকার জায়গা দিতে প্রস্তুত বলেও জানা গিয়েছে।
ক্রীড়া মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় দল যাতে কোনও সমস্যায় না পড়ে, তার জন্য বিমানবন্দর, ওয়েলকাম সেন্টার এবং গেমস ভিলেজ সব জায়গাতেই আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব এবং স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার আধিকারিকরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
জাপানে পৌঁছনোর পরই অবশ্য থাকার ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যার কথা সামনে আসে। ভারতের শেফ দ্য মিশন সহদেব যাদব জানান, ভারতীয় দলের জন্য নির্ধারিত থাকার কোটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে খুব কম সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত হোটেল খুঁজতে হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮টি অতিরিক্ত ঘর বুক করা হয়েছে এবং আরও ১০টি ঘর বুক করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
শুধু থাকার জায়গাই নয়, অ্যাক্রেডিটেশন এবং যাতায়াত নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হওয়ায় সময় লাগছে। খেলোয়াড়দের যাতে প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য নিজেদের ব্যবস্থাপনায় গাড়ি এবং হোটেলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় দলের কর্তারা।
এর মধ্যেই আরও একটি অস্বস্তিকর ঘটনা ঘটে ভারতের পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠান ঘিরে। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে দেশগুলির পতাকা উত্তোলনের নির্ধারিত অনুষ্ঠানে ভারতের পতাকা স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে উত্তোলনের কথা ছিল। ভারতের পাশাপাশি ইয়েমেন, উত্তর কোরিয়া, প্যালেস্তাইন, চিনা তাইপেই এবং তিমোর-লেস্তের প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও অনুষ্ঠান শুরু হয়নি। প্রথমে আয়োজকদের তরফে সামান্য দেরির কথা জানানো হলেও সময় গড়াতে থাকে। পরে জানানো হয়, অলিম্পিক কাউন্সিল অফ এশিয়া এবং আয়োজক কমিটির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রধান অতিথির দেরি করাও অনুষ্ঠানের সময় পিছিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে জানানো হয়।
দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান বলে জানা যায়। শেষ পর্যন্ত ভারতের তরফে ডেপুটি শেফ দ্য মিশন অঞ্জলি ভগবত এবং প্রাক্তন রিলে দৌড়বিদ লিজো ডেভিড থোট্টান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুরো ঘটনাকে ঘিরে ভারতীয় দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
তবে সমস্যার মধ্যেও অ্যাথলিটদের মনোবল যাতে ভেঙে না যায়, সেদিকেই জোর দিচ্ছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। সহদেব যাদব জানিয়েছেন, অব্যবস্থাপনা থাকলেও এখন দোষারোপ না করে খেলোয়াড়দের প্রয়োজন মেটানোই অগ্রাধিকার। তাঁদের লক্ষ্য, অ্যাথলিটরা যেন থাকার বা যাতায়াতের সমস্যা নিয়ে না ভেবে শুধুমাত্র নিজেদের পারফরম্যান্সে মন দিতে পারেন।
এদিকে ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য শুক্রবার নাগোয়ায় ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পিটি ঊষার সঙ্গে বৈঠক করেন। ভারতীয় দলের থাকার ব্যবস্থা এবং অন্যান্য লজিস্টিক সমস্যা নিয়ে তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। ফলে গেমস শুরুর আগেই নাগোয়ায় ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন শুধু প্রতিপক্ষ নয় দলের ব্যবস্থাপনাও।