কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া সংকটকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে দাবি করেন, দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তৃণমূল নেতৃত্বের ‘দম্ভ’ এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে না পারাই দায়ী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘ভগবান রামের অভিশাপ’-এর প্রসঙ্গও।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তৃণমূলের মধ্যে ক্রমশ বিভাজন তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, “উনি ওনার দলকে একজোট রাখতে পারেননি।” এরপরই তিনি দলের মধ্যে দুই, তিন বা চারটি ভাগ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এর দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর চাপান।
এদিন তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ সংকট এবং কমিশনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে আলাদা করে দেখার কথাও উঠে আসে।
তৃণমূলের প্রতীক বিতর্কের সূত্রপাত দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশন বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীকের ব্যবহার দুই গোষ্ঠীর জন্যই স্থগিত করে। দুই পক্ষকে বিকল্প নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছিল।
এর পর শুক্রবার কমিশন দুই গোষ্ঠীর জন্য পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী পেয়েছে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক। এই ব্যবস্থা আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে কার্যকর করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত দুই গোষ্ঠীর কেউই ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই শুভেন্দুর বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি অতীতের কয়েকটি রাজনৈতিক ঘটনাকে টেনে এনে ‘দম্ভের পরিণতি’ এবং ঈশ্বরের বিচারের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। রামমন্দির নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানের সমালোচনা করতে গিয়ে তাঁর বক্তব্যে রামচন্দ্রের ‘অভিশাপ’-এর কথাও উঠে আসে।
অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ফলে নাম, প্রতীক এবং দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এই তিন ইস্যুকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আসন্ন উপনির্বাচনের আগে দুই গোষ্ঠীর নতুন রাজনৈতিক পরিচয় কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই এখন নজরে।