সিওল: মার্কিন-ইরান সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দিল দক্ষিণ কোরিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামরিক সহায়তার জন্য চাপ থাকলেও, মধ্যপ্রাচ্যে সেনা পাঠাতে রাজি নয় সিওল। শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং জানান, এমন কোনও পদক্ষেপ তাঁর সরকার নেবে না, যাতে দেশটি সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে সেনা মোতায়েন না করলেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেল পরিবহনের রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। কারণ, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই জলপথ।
হরমুজ নিয়ে কেন এত উদ্বেগ সিওলের?
দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। দেশটির আমদানিকৃত তেলের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনীতিতে।
এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়া একদিকে নিজেদের জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখতে চাইছে, অন্যদিকে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে চাইছে। তাই সেনা পাঠানোর পরিবর্তে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল পরিবহনের নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছে সিওল।
আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন
দক্ষিণ কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান সংঘাত এবং প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
এর আগে যৌথ সামরিক মহড়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়া কমানোর নির্দেশ দেয়। মহড়াটির ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল মার্কিন প্রশাসন।
অন্যদিকে ইরান সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও ট্রাম্পের তরফে উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সেনা না পাঠানোর সিওলের সিদ্ধান্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এখন নজর আমেরিকার প্রতিক্রিয়ায়
হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান এখন স্পষ্ট। সামরিক বাহিনী পাঠানোর পরিবর্তে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি পরিবহনের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছে সিওল। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলির উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। সেই কারণেই দক্ষিণ কোরিয়ার এই অবস্থানকে ঘিরে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই আলোচনা শুরু হয়েছে।




