নিউজ ডেস্ক : ভোটার তালিকা ঘিরে একের পর এক পদক্ষেপ, আর তাতেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। একটি প্রক্রিয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এসেছে নতুন উদ্যোগ। কিন্তু, সেই উদ্যোগেও কি কাটলো সাধারণ ভোটারদের উদ্বেগ? নাকি নতুন করে তৈরি হলো আরও কিছু প্রশ্ন? মঙ্গলবার এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে সর্বদলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুনাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে SIR-এর পর এবার SSR প্রক্রিয়া ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং ভোটারদের অধিকার সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ।
কুনাল ঘোষের দাবি, SIR প্রক্রিয়ায় বহু মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে এবার শুরু হয়েছে SSR। বৈঠকে ফর্ম-৬ নিয়েও আলোচনা হলেও যাদের নাম বা ভোটার আধিকার নিয়ে সংশয় রয়েছে, তাঁদের আবেদন করলেই যে সমস্যার সমাধান হবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা মেলেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, ফর্ম-৬ এর মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস পাওয়া যায়নি।
একই সঙ্গে ফর্ম-৭ নিয়েও আপত্তি তুলেছেন তৃণমূল নেতা। তাঁর আশঙ্কা, এই ফর্ম ব্যবহার করে একতরফা ভাবে একাধিক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে, বৈধ ভোটারদের নতুন করে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বলে দাবি তাঁর।
কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, "সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বৈঠকে মানুষের ভোটাধিকার এবং স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে একাধিক দাবি ও আপত্তি জানানো হয়েছে"। শুধু তৃণমূল নয়, কংগ্রেস এবং বাম দলগুলিও পৃথকভাবে এই ধরনের আপত্তি ও দাবি তুলে ধরেছে বলে তাঁর বক্তব্য।
বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও তুলেছেন কুনাল। তাঁর দাবি, গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে দিল্লির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য সামনে আসেনি।
সব মিলিয়ে SIR-এর পর SSR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৈধ ভোটারদের নাম যাতে কোনওভাবেই বাদ না যায়, সেই দাবিতে আন্দোলন জারি রাখার বার্তা দিয়েছেন কুনাল ঘোষ। তাঁর কথায়, "গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াই চলবে"।




